ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আমরা প্রায় সবাই চা পছন্দ করি। আমরা যারা অফিস করি তাদের কাছে দুপুরের খাবার খেয়ে চা পান করাটা টা অমৃত মনে হয়, কাজের উদ্যম বাড়ে। সে ক্ষেত্রে খেতে পারেন গ্রীন টি। গরম গ্রিন টি-তে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের পরিমাণ বেশি থাকে, বলছে একাধিক গবেষণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর গ্রিন টি নিয়মিত খেলে ত্বক, চুল সবই ভাল থাকে। কিন্তু খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন তারা।

বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্র বলছে, অন্যান্য চায়ের মতো গ্রিন টি আমাদের শরীরে জারিত হয় না। তাই এই চা অন্য চায়ের তুলনায় স্বাস্থ্যকর। অনেক রকম ফ্লেভার তো বটেই, বাজারে ভেষজ গ্রিন টি-ও পাওয়া যায়। গ্রিন টি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড জমতে দেয় না। রক্তনালিতে এই সব ফ্যাট জমলে রক্ত সঞ্চালন বাধা পায়। চলুন জেনে নেয়া যাক গ্রীন টির উপকারিতা-
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। তবে গ্রিন টি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কাজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গ্রিণ টি প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করে।
ওজন কমানো থেকে হজমে সাহায্য এবং কোলেস্টেরল কমাতে ম্যাজিকের মতোন কাজ করে গ্রিন টি। মেটাবলিজমের মাত্রা বাড়িয়ে দ্রুত ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে এটি এক দিনে ৭০ ক্যালরি পর্যন্ত ফ্যাট বার্ন করে। তার মানে রেগুলার গ্রিন টি পানের মাধ্যমে বছরে ৭ পাউন্ড (Pound) পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব।
গ্রিন টি পলিফেনল ও ফ্লাভেনয়েডের মতো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে পরিপূর্ণ যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর গ্রিন টি নিয়মিত খেলে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকার পাওয়া যায়।
এতে রয়েছে এক ধরনের এন্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) যা বার্ধক্যের গতিকে ধীর করে এবং আয়ু বাড়ায়।
নিয়মিত এক কাপ গ্রিন টি পান হার্ট এর রোগের ঝুঁকি ৪৪% (44%) কমিয়ে দেয় এবং ব্লাড প্রেসার (Blood Pressure) নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এটি নিয়মিত পান মুখের দুর্গন্ধ দূর করে, ওরাল ব্যাকটেরিয়া (Oral Bacteria) ধ্বংস করে এবং ডেন্টাল ক্যাভিটিস (Dental Cavities) প্রতিরোধ করে।
মেডিকেল গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, গ্রিন টি ব্রণের সমস্যা ট্রিটমেন্টের (Treatment) জন্য খুবই কার্যকরী। এটি ত্বকে কোন রকম ইরিটেশন (Irritation) বা ড্রাইনেস (Dryness) তৈরী করা ছাড়াই ব্রণ নির্মূল করে।
উল্লেখ্য, অতিরিক্ত গ্রিন টি যেমন পান করা ঠিক না, তেমনই আবার খালি পেটে ঘুম থেকে উঠেই গ্রিন টি, কিংবা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে গ্রিন টি পান করা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অর্গানিক গ্রিন টি বেছে নিলে কীটনাশকের বা কোনও ক্ষতিকারক রাসায়নিকের প্রভাবমুক্ত থাকা যাবে। পেপটিক আলসারের রোগীরা গ্রিন টি না খাওয়াই ভাল। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গ্রিন টি পান করতে চাইলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নেয়া উচিৎ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এস.
























Recent Comments