রবিবার, ২২শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিচীন থেকে অর্ডার সরছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ
spot_img
spot_img

চীন থেকে অর্ডার সরছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকের আমদানি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকেও পোশাক রপ্তানি কমেছে। তবে চীন ও ভারতের মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার বেশ কম। ফলে চীন থেকে অর্ডার অন্য দেশে স্থানান্তরের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ নতুন ব্যবসার সুযোগ পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক আমদানি হয়েছে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারের। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আমদানি ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। শুধু জুলাই মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা মন্থরতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

তবে প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। ভারতের রপ্তানি কমেছে ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ ছাড়া পাকিস্তানের রপ্তানি ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ১ দশমিক ০৩ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

পোশাকের সরবরাহকৃত পরিমাণের হিসাবেও বাংলাদেশের রপ্তানি ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। তবে একই সময়ে চীন ও ভারতের সরবরাহের পরিমাণ কমেছে যথাক্রমে ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ ও ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ। বিপরীতে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া পরিমাণের হিসাবে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।

এদিকে পোশাকের গড় মূল্যও কমেছে প্রায় সব প্রধান সরবরাহকারী দেশের ক্ষেত্রে। এর মধ্যে চীনের পোশাকের গড় একক মূল্য কমেছে সবচেয়ে বেশি, ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাংলাদেশের পোশাকের গড় একক মূল্য কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। বিশেষ করে চীন থেকে অর্ডার কমিয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছেন অনেক মার্কিন ক্রেতা ও পোশাক ব্র্যান্ড। এ পরিবর্তনের কারণে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক আমদানি ও সরবরাহের পরিমাণ কমে যাওয়ায় প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা গেছে চীনের ওপর। বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামও এ মন্দার প্রভাব থেকে বাইরে থাকতে পারেনি।

তিনি বলেন, চীন থেকে অর্ডার অন্য দেশে স্থানান্তরের কারণে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে। একই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্যও নতুন অর্ডার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

মার্কিন ভোক্তাদের পোশাক কেনার ধরনেও পরিবর্তন আসছে বলে মনে করেন মহিউদ্দিন রুবেল। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব পোশাকের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবহৃত পোশাক কেনার প্রবণতাও বাড়ছে। এসব পরিবর্তন নতুন পোশাকের আমদানির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

উদ্যোক্তা ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ শুল্কনীতি এবং মার্কিন নীতিগত অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক ক্রেতা ও ব্র্যান্ড তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা নতুন করে সাজাচ্ছে। ঝুঁকি কমাতে তারা কোনো একটি দেশ বা অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না থেকে বিভিন্ন উৎস থেকে পোশাক সংগ্রহের দিকে ঝুঁকছে।

এ অবস্থায় চীন থেকে অর্ডার স্থানান্তরের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন অর্ডার পেতে পারে। তবে এ জন্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে আমদানি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments