শুক্রবার, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeসম্পাদকীয়ডিভিডেন্ড জালিয়াতিতে অনেক কোম্পানি: কঠোরতা জরুরি
spot_img
spot_img

ডিভিডেন্ড জালিয়াতিতে অনেক কোম্পানি: কঠোরতা জরুরি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো সাধারণত দুটি উপায় ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করে। কেউ কেউ বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (বিইএফটিন) এর মাধ্যমে ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাঠালেও বেশিরভাগই কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে। আর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট বিতরণের ইস্যুতেই মূলত প্রতারণা করা হয়। এই প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিবছর কোম্পানিগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। নীতি নির্ধারণী মহলের এ ব্যাপারে মনিটরিং না থাকার কারণে দিনের পর দিন ডিভিডেন্ড বঞ্চিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে অল্প পরিমাণ করে শেয়ার থাকে। দেখা যায়, কারো হাতে থাকা ৫০০ শেয়ারের বিপরীতে ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড পেলে তার ডিভিডেন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০০ টাকা। সে ৫০০ টাকার ডিভিডেন্ডের জন্য কোম্পানিতে যোগাযোগও করে না, খোঁজ খবরও রাখেন না। আর যদি ৫% বা ২-৩% ডিভিডেন্ড হয় তাহলে ২০০-৩০০ টাকার জন্য কেউ এটা নিয়ে মাথাও ঘামায় না। আর এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে কোম্পানির এমডি, সিএফও, সেক্রেটারি থেকে শুরু করে শেয়ার ডিপার্টমেন্ট পর্যন্ত। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ওয়ারেন্ট মিলে একত্রে কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করে।

মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট পাঠিয়ে বাকিগুলো নিজেদের কাছে রেখে দেয়। আর স্টক এক্সচেঞ্জে ডিভিডেন্ড বিতরণ করা হয়েছে বলে সংবাদ পাঠিয়ে কমপ্লায়েন্স পূরণ করে দেয়। এদিকে যাদেরকে ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট পাঠায় তারাও সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারে না। কোম্পানিগুলো ইচ্ছে করে ফান্ড ক্রাইসিস দেখায়। দেখা যায়, ওয়ারেন্টের মেয়াদ যতদিন থাকে তার শেষ সময় ডিভিডেন্ড প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রেও ডিভিডেন্ডের টাকা আটকে রেখে মাসের পর মাস ব্যাংক সুদ পায় কিংবা অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়। অনেক বিনিয়োগকারী কোম্পানিতে ডিভিডেন্ডের জন্য যোগাযোগ করলে তাদের সঙ্গেও ভালো ব্যবহার করা হয় না। এজিএমে গিয়ে যে নিজেদের মনের কথা কিছু জানাবে সেই সুযোগও দেয়া হয় না। নির্দিষ্ট কিছু এজিএম দালাল ভাড়া করে কথা বলার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ কোম্পানির মূল মালিকই হচ্ছেন এই বিনিয়োগকারীরা। আর এভাবেই দিনের পর দিন বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড নিয়ে জালিয়াতি করা হচ্ছে। কিন্তু মনিটরিংয়ের অভাবে প্রতিটি কোম্পানিই পার পেয়ে যাচ্ছে। মাইনরিটি ইন্টারেষ্ট বা সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ হলেও তাদেরকে পুতুল বানিয়ে রাখা হয়।

এ অবস্থা থেকে উত্তোরণ করা জরুরি। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কিংবা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে একটি মনিটরিং টিম রাখা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। যেসব কোম্পানি ডিভিডেন্ড ইস্যুতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জালিয়াতি করবে তাদেরকে বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments