ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বর্তমানে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত এ রোগে অধিকাংশ রোগী সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও যথাযথ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা পেলে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে জ্বর কমে গেলেই রোগী সম্পূর্ণ নিরাপদ—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। বরং জ্বর কমার পরবর্তী ২৪–৪৮ ঘণ্টাই ডেঙ্গুর Critical Phase , যখন শরীরে প্লাজমা লিকেজ, রক্তক্ষরণ এবং রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এই সময় রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে প্রচণ্ড ব্যথা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা এবং ত্বকে লালচে র্যাশ। তবে কিছু Warning Sign অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন—তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া অথবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি।
ডেঙ্গুতে পুষ্টি ব্যবস্থাপনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ‘সুপারফুড’ নেই যা প্লাটিলেট বাড়িয়ে দেয়। বর্তমান গবেষণা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত শক্তি ও প্রোটিন সরবরাহই রোগীর দ্রুত সুস্থতার মূল ভিত্তি। শরীরে পানিশূন্যতা প্রতিরোধে নিরাপদ পানি, ওআরএস, পাতলা স্যুপ, লেবুর শরবত এবং প্রয়োজনে ডাবের পানি (যদি কিডনি রোগ বা পটাশিয়াম সীমাবদ্ধতা না থাকে) উপকারী।
ক্ষুধা কম থাকলে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানো উচিত। ভাত, নরম খিচুড়ি, ওটস, সুজি বা আলুসহ নরম কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে ডিম, মাছ, চামড়াবিহীন মুরগির মাংস, ডাল ও দইয়ের মতো উচ্চমানের প্রোটিন রাখতে হবে। পাশাপাশি কমলা, পেয়ারা, আমলকি, কিউই, পেঁপে ও অন্যান্য মৌসুমি ফল থেকে ভিটামিন C ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, যা রোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে সহায়ক।
একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি— পেঁপে পাতার রস, গিলয় বা বিভিন্ন হারবাল পানীয় প্লাটলেট বাড়ায়— এমন দাবির পক্ষে এখনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এসবের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ও সুষম খাদ্য গ্রহণই নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।
একজন Clinical Dietitian হিসেবে আমার পরামর্শ, ডেঙ্গু রোগীর খাদ্য পরিকল্পনা অবশ্যই রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা, সহ-বিদ্যমান রোগ এবং ক্লিনিক্যাল অবস্থার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত। Nutrition Care রোগীর দ্রুত আরোগ্য, পানিশূন্যতা প্রতিরোধ এবং জটিলতার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম






























Recent Comments