ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: নগদ অর্থের তীব্র সংকটে থাকা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসএমই প্ল্যাটফর্মের প্রকৌশল খাতের কোম্পানি নিয়ালকো অ্যালোয়েস লিমিটেড বিনিয়োগকারীদের কাঙ্খিত ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তাই নয়, কোম্পানিটির মুনাফাও কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। কোম্পানিটির এমন পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, জুন ক্লোজিংয়ের নিয়ালকো অ্যালোয়েসের ২০২৪ সালে নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্বক হয়েছে ১১ কোটি ১৫ লাখ ১২ হাজার ৫৫৯ টাকা, যা কোম্পানিটির নগদ অর্থের তীব্র সংকট নির্দেশ করে।
২০২৩ সালে কোম্পানিটিতে পণ্য সরবরাহকারীদের ৪৯ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ৯৪৮ টাকা প্রদান করেছে। আর ২০২৪ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৭৭ কোটি ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩০৬ টাকা। বছরের ব্যবধানে অর্থ প্রদান বেড়েছে ২৮ কোটি ৭ লাখ ১১ হাজার ৩৫৮ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, কোম্পানিটির হাতে নগদ অর্থের তীব্র সংকট রয়েছে। কোম্পানিটির লোনের পরিমাণ বেড়েছে, যা কোম্পানিটির ব্যবসার জন্য মোটেই ভালো কিছু নয়। আর বেশি পরিমাণে পণ্য কিনে নগদ অর্থের সংকট সৃষ্টি করা মোটেই উচিত হয়নি কোম্পানিটির।

কোম্পানিটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালে কোম্পানিটির ব্যাংক লোন এসে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৫৮ হাজার ৩৭৩ টাকা। এই বছরে কোম্পানিটি মোট ব্যাংক ইন্টারেস্ট (সুদ) দিয়েছে ৮৩ লাখ ৫৪ হাজার ৯৮৭ টাকা। এর আগের বছর (২০২৩) যা ছিল ৫৭ লাখ ৭৪ হাজার ১৬৮ টাকা। বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যাংক ইন্টারেস্ট বেড়েছে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ৮১৯ টাকা।
কোম্পানিটির ব্যবসায় এমন অধ:পতন বিনিয়োগকারীরাও মেনে নিতে পারছে না। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কেটে যখন আসে তখন অনেক ভালো ভালো কথা বলে বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল। তালিকাভুক্ত পরবর্তী দুই যেতে না যেতেই কোম্পানিটির নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে, ব্যাংক লোন বেড়েছে। শুধু তাই নয়, ডিভিডেন্ড দেওয়ার পরিমাণও কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। যার ফলে কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কমতে শুরু করেছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির ২০২৪ সালে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক দশমিক ৭৬ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ২ দশমিক ০৯ টাকা। বছরের ব্যবধানে ইপিএস কমেছে দশমিক ৩৩ টাকা বা ১৬ শতাংশ।
নিয়ালকো অ্যালোয়েসের উপদেষ্টা আজিজ উদ্দিন ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, আমাদের কোম্পানি অনেক ভালো মানের। আমাদের পুঁজিবাজারে আসা উচিত হয়নি। পুঁজিবাজারে না আসলে আমরা আরও ভালো থাকতাম। আমরা পণ্য পারচেজ (ক্রয়) বেশি করেছি। যে-কারণে আমাদের এনওসিএফপিএস ঋণাত্বক হয়েছে। আর ব্যাংক লোন বেড়ে যাওয়ার কারণে ইন্টারেস্টটাও বেড়েছে।
বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্যপরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, নিয়ালকোর দায় বেড়েছে, ডিভিডেন্ডও দিয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ। এ অবস্থায় কোনোভাবেই কোম্পানিটিকে ভালো বলা যায় না। কোম্পানিটি কেন ১০ শতাংশের নিচে ডিভিডেন্ড দিলো সে-ব্যাপারে তদন্ত হওয়া উচিত। পাশাপাশি কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত কমিশনের।
উল্লেখ্য, নিয়ালকো অ্যালোয়েসের মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৮৫ লাখ, যার মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার রয়েছে ৬৮ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ২১ দশমিক ০৪ শতাংশ। আজ কোম্পানিটির সমাপনী শেয়ার দর ছিল ২০ দশমিক ৭০ টাকা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ




























Recent Comments