
ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক:
করোনা সংক্রমণ রোধে ‘হোম কোয়ারেন্টিন’ নিশ্চিত করতে বিদেশ ফেরত সাড়ে ছয় লাখ ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন পথে তারা বাংলাদেশে এসেছেন। পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাসহ তাদের নামের তালিকা ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্টদের নিজ বাড়িতে সার্বক্ষণিক অবস্থান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করতে বলা হয় ডিসিদের কাছে পাঠানো চিঠিতে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। আরও জানা গেছে, বিভাগীয় ও জেলা শহরে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনে রাখা মানুষের জন্য নগদ টাকা, জিআর চাল ও শুকনা খাবার চেয়েছেন বিভিন্ন জেলার ডিসি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ডিসিদের চিঠিতে করোনা আইসোলেশন সেন্টারের আসবাবপত্র, চিকিৎসকদের পোশাক, মেডিসিন ও রোগীর আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের অভাবের কথা তুলে ধরা হয়।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বুধবার নিজ দফতরে বলেন, আজই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটি মেসেজ পেয়েছি। তিনি বলেছেন, সম্প্রতি বিদেশ ফেরত অনেক ব্যক্তিকে করোনাভাইরাসজনিত কারণে সরকারের পক্ষ থেকে ‘হোম কোয়ারেন্টিন’-এ থাকতে বলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কেউ কেউ ওই নির্দেশনা অমান্য করে শ্বশুরবাড়ি বেড়ানোসহ নানান জায়গায় ঘোরাফেরা করছেন।
এ বিষয়ে তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারিসহ জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সব ডিসিকে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিদেশ ফেরত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তাকেও কমপক্ষে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সব দফতরে দর্শনার্থীর সাক্ষাৎ সীমিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান শেখ ইউসুফ হারুন।
সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত বিভিন্ন পথে ৬ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৩ জন বিদেশ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রবেশ করেছে ৮ হাজার ৬৬৮ জন। এর মধ্যে ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে দেশে এসেছে ৩ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ জন, স্থলপথে ৩ লাখ ৬২১ জন এবং সমুদ্রপথে প্রবেশ করেছে ৭ হাজার ৯৫৫ জন। এ ছাড়া রেলপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ৭ হাজার ২৯ জন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনাভাইরাস নিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছে। এ ছাড়া এই বিমানবন্দরসহ দেশের সব বন্দরে জারি করা হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা।
একইভাবে দেশের সব স্থলবন্দর, নৌবন্দর, সমুদ্রবন্দরসহ রেলপথে প্রবেশের পথেও বসানো হয় থার্মাল স্ক্যানার। গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে কমবেশি সাড়ে ৬ লাখ লোক বিদেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছে। থার্মাল স্ক্যানার কম থাকায় অনেকে কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই বিদেশ ফেরত অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে গেছেন।
দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে তারা অনেকেই আত্মীয়স্বজনসহ বন্ধু-বান্ধবদের বাড়ি বেড়ানো এবং হাটবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কাজই করছেন। ফলে তাদের কারও শরীরে করোনাভাইরাস থাকলে তা মহামারী আকারে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় এই সাড়ে ৬ লাখ লোকের তালিকা করে তাদের ওপর নজরদারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে প্রতিটি জেলার বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও কোন দেশ থেকে এসেছেন সেসব তথ্য সংবলিত তালিকা করে ডিসিদের কাছে পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই চিঠিতে বলা হয়- করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় সারা বিশ্বে হোম কোয়ারেন্টিন (নিজ গৃহে সাঙ্গত্যাগ) একমাত্র উপায় বলে ব্যবহার হয়ে আসছে।
দেশে প্রত্যাগত প্রবাসীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে এই ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি রয়েছে। এই ভাইরাস মোকাবেলায় জাতীয়, বিভাগীয়, সিটি কর্পোরেশন এলাকা, পৌরসভা, জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে সম্প্রতি বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের বাড়ি চিহ্নিত করে তাদের গৃহে সার্বক্ষণিক অবস্থানের বিষয়ে তদারকি করবেন।
কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিরা যদি নিয়ম ভঙ্গ করে তবে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন অনুয়ায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব বিষয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই অবহিত করতে বলা হয় চিঠিতে।
এ প্রসঙ্গে মাদারীপুরের ডিসি ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, আমার জেলার দুই হাজার ৯২৬ জনের তালিকা পেয়েছি। ইতিমধ্যে তাদের বিষয়ে তদারকি শুরু করেছি। তবে করোনায় আক্রান্ত বা আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তিদের থাকা-খাওয়া এবং আসবাবপত্র নেই। নেই চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় পোশাক ও ওষুধ। সেন্টারে নেই খাট, বেডসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র। এ জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছি।
চিঠিতে মাদারীপুরের ডিসি বলেছেন, এ জেলার ৪টি উপজেলায় বিপুলসংখ্যক লোক ইতালি ও করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশে বাস করে। ইতিমধ্যে এ জেলায় ইতালি ফেরত ২ জনসহ ৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই রোগ যাতে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করতে না পারে সে জন্য বেশকিছু লোককে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন এবং আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
জেলার কোনো কোনো এলাকা ‘লকডাউন’ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। লকডাউন এলাকায় বসবাসরত দুস্থ ও অসহায় লোকদের আর্থিক ও খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য ৩০ লাখ নগদ টাকা, ২০০ টন জিআর চাল এবং ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবারসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে। একইভাবে আরও একাধিক জেলা থেকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন ডিসিরা।






























Recent Comments