ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গঠনে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন (ক্যাপমিনাফ)। বুধবার (১৭ জুন) বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ প্রতিক্রিয়া জানায়।
ক্যাপমিনাফ জানায়, পুঁজিবাজারের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো সরকারের পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ এবং অর্থমন্ত্রীর বিভিন্ন ইতিবাচক বক্তব্য বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার যে নীতিগত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং ইতিবাচক।
ক্যাপমিনাফ আরও জানায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতোমধ্যে টি+২ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা থেকে ধাপে ধাপে টি+১ এবং ভবিষ্যতে টি+০ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আইপিও কার্যক্রম অনুমোদন এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে মুনাফার অন্তত ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ বিতরণে উৎসাহিত করতে নতুন কর কাঠামো চালুর পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লেনদেন নিষ্পত্তি আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাজার অবকাঠামো গড়ে উঠবে।
ক্যাপমিনাফ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট, সীমিত বিনিয়োগ পণ্য এবং ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের কারণে দেশের পুঁজিবাজার প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তবে এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে নীতিগত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন উদ্যোক্তারা মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। এর ফলে কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নও ত্বরান্বিত হবে।
ক্যাপমিনাফের মতে, বর্তমানে শেয়ারবাজারে দৈনিক লেনদেন ১ হাজার ২০০ কোটি থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। বাজেট অনুমোদনের পর এ লেনদেন ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং প্রায় ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়া পরপর তিন বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ এবং উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোকে সরাসরি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে না পাঠিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি। তাদের মতে, এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।
এছাড়া, নো-ডিভিডেন্ড দেয়া কোম্পানিগুলো-যেগুলো পর পর তিন বছর ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হয়েছে ও উৎপাদন বন্ধ সেগুলোকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে শাস্তিমূলক না পাঠিয়ে বিএসইসি কর্তৃক প্রশাসক বসানো হোক। এতে বিনিয়োগকারী ও কোম্পানি উভয়েরই উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
ক্যাপমিনাফের নেতারা বলেন, অতীতের বাজেটগুলোতে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন নিয়ে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে এবং বাজেট বক্তব্যে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও সম্প্রসারণের বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যা প্রশংসার দাবি রাখে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত উদ্যোগে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, স্থিতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানের পুঁজিবাজার গড়ে তোলার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম




























Recent Comments