বৃহস্পতিবার, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeএক্সক্লুসিভপ্রিমিয়ার সিমেন্ট: ঋণের টাকায় খরচ বৃদ্ধি, মুনাফার বেলায় ঠন ঠন (পর্ব-১)
spot_img
spot_img

প্রিমিয়ার সিমেন্ট: ঋণের টাকায় খরচ বৃদ্ধি, মুনাফার বেলায় ঠন ঠন (পর্ব-১)

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসির সুদজনিত ব্যয় (ইন্টারেস্ট পেইড) বেড়েছে। তবে সুদজনিত ব্যয় বাড়লেও বাড়লেও গত তিন বছরের মধ্যে সদ্য বিদায়ী বছরে (৩০ জুন ২০২৫) সর্বনিম্ন মুনাফা করেছে কোম্পানিটি। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে বিশাল অঙ্কের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, ব্যবসায়িকভাবে ভালো অবস্থায় নেই প্রিমিয়ার সিমেন্ট। কিন্তু কোম্পানির ঋণের বিপরীতে সুদ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে, যা পরিশোধে রীতিমতো হিমশম খাচ্ছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। মুনাফা যেভাবে কমতে শুরু করেছে তা যদি আগামীতেও অব্যাহত থাকে তবে খুব শিগগিরই ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে (৩০ জুন ২০২৪) কোম্পানির সুদজনিত ব্যয় হয়েছে ১৬৭ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২২৮ কোটি দুই লাখ ১১ হাজার ৬২৩ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সুদজনিত ব্যয় বেড়েছে ৬০ কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার ৮২৩ টাকা বা ৩৬ শতাংশ।

এদিকে বিশাল অঙ্কের সুদজনিত ব্যয় বাড়লেও কোম্পানির মুনাফায় দেখা দিয়েছে হতাশার প্রতিচ্ছবি। ব্যাংক বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লোন বা ঋণ নিয়ে যদি প্রিমিয়ার সিমেন্ট ব্যবসার কোনো উন্নতিই করতে না পারে, তবে সেই ঋণ তারা কেন নিয়েছে? এমন প্রশ্ন সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে খাত সংশ্লিষ্টদের মনে জেগেছে।

(প্রিমিয়ার সিমেন্টের অনিয়ম নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্ব।)

এছাড়াও ঋণের অর্থে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ নিজেদের আখের গুছিয়েছে। কোম্পানির ব্যবসায়িক উন্নয়নে তেমন কোনো কাজে লাগায়নি, এমনটাও ধারণা করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত বছর কোম্পানির নিট প্রফিট বা মুনাফা হয়েছিল ৭৪ কোটি ১৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৮ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৫ হাজার ৬৫৪ টাকা। বছরের ব্যবধানে নিট প্রফিট কমেছে ৬০ কোটি ৫২ লাখ ৫২ হাজার ৫৪৪ টাকা বা ৮২ শতাংশ।

এদিকে মূল ব্যবসার পাশাপাশি সহযোগি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অপরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলসের সহযোগি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সিমেন্ট মিলস লিমিটেড। কোম্পানিটিতে প্রিমিয়ার সিমেন্টের মালিকানা রয়েছে ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত বছর সহযোগি এই প্রতিষ্ঠা থেকে প্রিমিয়ার সিমেন্টের মুনাফা এসেছিল ২২ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬১ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৮ টাকা। বছরের ব্যবধানে এই সহযোগি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রিমিয়ার সিমেন্টের মুনাফা কমেছে ৮ লাখ ৯৬ হাজার ৮৬৩ টাকা বা ৩৯ শতাংশ।

 

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, সহযোগি প্রতিষ্ঠান বা মূল ব্যবসায় প্রিমিয়ার সিমেন্টের আদৌ মুনাফা কমেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এদিকে মুনাফা বেশি হলেও তা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কম দেখিয়ে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকতে পারে প্রিমিয়ার সিমেন্ট, এমনো ধারণা করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরে প্রিমিয়ার সিমেন্টের রেভেনিউ বা বিক্রয় রাজস্ব কমেছে ৩১১ কোটি ৮ লাখ ৯১ হাজার ৮৯২ টাকা বা ১২ শতাংশ। গত বছর কোম্পানির বিক্রয় রাজস্ব হয়েছে দুই হাজার ৬৯২ কোটি ৩৬ লাখ ২৪ হাজার ৩৪১ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩৮১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৪৪৯ টাকা।

এছাড়াও প্রিমিয়ার সিমেন্টের বিক্রয় রাজস্ব কমলেও সেলিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ব্যয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত বছর কোম্পানির সেলিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ব্যয় ছিল ৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৩ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি ১২ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৯ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় বেড়েছে ১৪ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ৩৫৬ টাকা।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানির ব্যবসা এমনিতেই ভালো অবস্থায় নেই। তারমধ্যে সেলিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন খরচ এভাবে বৃদ্ধি করাই প্রমাণ করে ম্যানেজমেন্টের দক্ষতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। আবার এমনো হতে পারে সেলিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন খরচ বেশি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছে পরিচালনা পর্ষদ। তাই কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করা উচিত বলে মনে করেন তারা।

এসব ব্যাপারে জানতে প্রিমিয়ার সিমেন্টের কোম্পানি সচিব কাজী মো. শফিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্নসমূহ তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে বলেন। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বেশ কয়েকটি প্রশ্নের তিনি হাস্যকর উত্তর দিয়েছেন।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমাদের সহযোগি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সিমেন্ট মিলস লিমিটেড এর মুনাফা কমে যাওয়ার কারণে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে কম মুনাফা পেয়েছে।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল হক ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবসা ভালো। ইচ্ছাকৃতভাবে মুনাফা কম দেখায় কোম্পানিটি। মুনাফার বিশাল একটা অংশ কোম্পানিটি আত্মসাৎ করে। কোম্পানিটিকে তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

উল্লেখ্য, প্রিমিয়ার সিমেন্টের পরিশোধিত মূলধন ১০৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) মালিকানা রয়েছে ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments