রবিবার, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeস্বাস্থ্য বার্তাফুড পয়জনিং কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে? শরীরে কতটা প্রভাব ফেলে এ রোগ
spot_img
spot_img

ফুড পয়জনিং কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে? শরীরে কতটা প্রভাব ফেলে এ রোগ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: খাবারে বিষক্রিয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে— খাবার সংরক্ষণে অসতর্কতা। রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া, অপরিষ্কার বাসনপত্র ব্যবহার, রান্নার আগে হাত না ধোয়া কিংবা কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখা— এসব থেকেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে।

সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় একটি ফাস্টফুড আউটলেট থেকে সাওয়ারমা ও পিৎজা খাওয়ার পর অন্তত ৮৮ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তাদের অধিকাংশেরই পেটব্যথা, বমি বা বমি ভাব এবং ডায়ারিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট খাবারের দোকানটি সিল করে দিয়েছে প্রশাসন এবং খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, ফুড পয়জনিং বা খাবারে বিষক্রিয়া অনেক সময় সাধারণ খারাপের মতো মনে হলেও বিষয়টি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। খাবারে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী বা তাদের তৈরি টক্সিন শরীরে প্রবেশ করলে খুব দ্রুত তার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে কয়েক দিন পরেও এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।

ফুড পয়জনিং কী জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে এক কথায় বললে— হ্যাঁ, পারে। চিকিৎসকদের মতে, ফুড পয়জনিং দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। কারণ বমি ও ডায়ারিয়ার ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। ফলে ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

কেন ফুড পয়জনিং হয়? এমন প্রশ্নে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাইরে খাবার খাওয়ার আগে দোকানের পরিচ্ছন্নতা লক্ষ্য করুন। সম্ভব হলে সদ্য প্রস্তুত ও গরম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দীর্ঘক্ষণ বাইরে বা খোলা রাখা খাবার এড়িয়ে চলুন।

আর ফল ও শাকসবজি ভালো করে ধুয়ে খান এবং সবসময় নিরাপদ পানীয় পানি পান করুন। খাবার তৈরি বা পরিবেশনের আগে ও পরে হাত ধোয়ার অভ্যাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুড পয়জনিং রুখতে দামি কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতা, সঠিক খাদ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments