
স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। এটা শুধু প্রবাদ বাক্য নয়। এটা বাস্তবিক ও বটে। আমাদের শেয়ার বাজার ব্যবস্থায় এটা তো আরও জটিল কেননা আমাদের দেশে এখনো ৮০% বিনিয়োগ কারী হুজুগে বা গুজবে বিনিয়োগ করে থাকে।
যদিও ঐ প্রবাদ বাক্য টির মত স্বাধীনতা অর্জন বা দেশের শেয়ার বাজারের অর্জনের সফলতা কে বোঝাতে চাচ্ছি কিন্তু এই অর্জনের জন্য নিকট অতীতে এর পথ সুগম ছিলনা। বর্তমান শীবলী কমিশন সরকারের আন্তরিকতায় ও সহযোগীতায় কঠিন পথ পাড়ি দিচ্ছেন। পূর্বের খাইরুল কমিশনের চরম ব্যর্থতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবহেলায় শেয়ার বাজারকে একেবারে নাজুক ও নড়বড়ে অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বর্তমান শীবলী কমিশন গঠিত হয় এবং এই কমিশন তরিৎ গতিতে বাজারে বিভিন্ন সংস্কার ও সঠিক সিদ্ধান্ত গুলো বাস্তবায়ন করার ফলেই আমার তথাকথিত স্বাধীনতা অর্জন বা শেয়ার বাজার বর্তমানে বেশ সফলতা অর্জন করেছে এবং আশা করা যায় এই কমিশনই বাজার কে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আর এর জন্য কমিশন কে অবশ্যই এটি মনে রাখতে হবে এই সফলতা যেন বজায় থাকে। এই সফলতা বজায় রাখতে হলে অবশ্যই কমিশন BSEC ও DSE কে সজাগ এবং বিনিয়োগকারী সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে তবেই সফলতার উচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত হওয়া যাবে।
আর এর জন্য DSE ও BSEC এবং সাধারণ বিনিয়োগকারী যার যার দায়িত্ব পালন করতে হবে।এখন এই দায়িত্ব টার আগে আমার নিজের তৈরী একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি সহজ করতে চাই। মনে করেন, একটা ট্রেন চলমান। এই ট্রেনের ইন্জিন হল BSEC ও ট্রেনের ড্রাইভার টিটি কর্মকর্তা কর্মচারী নিরাপত্তা কর্মী এরা হল DSE ও ট্রেনের ট্রাক বা লাইন হল সরকার এবং ট্রেনের বতর্মানে ২১ টা বগী মানে শেয়ার বাজারের ২১ টি Sector Fuel/Power/Tex/Bank/Insurance/
ট্রেনটি বিভিন্ন স্টপেজে থামছে এবং যে যার গন্তব্য পৌঁছাছে এবং কেউ বা নতুন করে ট্রেনে যার যে বগী বা খাত পছন্দ সেটাই উঠছে আবার ট্রেনটি ছুটে চলেছে। এর মধ্যে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন রকমের গুজব নামক হাওয়া বা বাতাশ চাপ দিচ্ছে তাতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ট্রেনটি হেলেদুলে গতি কমিয়ে/বাড়িয়ে যাচ্ছে তারপর বাতাস বন্দ বা প্যানিক কেটে গেলে পুনরায় পুনাঙ্গ গতিতে ছুটে চলছে।
সুতরাং এই উদাহরণস্বরূপ, বাজারে যে স্বাধীনতা অর্জনের সফলতা কে ধরে রাখতে BSEC কে এমনভাবেই দক্ষ হাতেই এগিয়ে যেতে হবে যার জন্য কঠোর নজরদারী ও বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস কে চলমান রাখতে হবে এবং DSE কে পরামর্শ ও নজরদারীতে রাখতে হবে।
তেমনি DSE কেও তাদের পরিচালকদের এক্সচেঞ্জের সব কর্মকর্তা তথা আইটি বিভাগকে কঠোরভাবে নজরদারী রাখা জরুরী এবং Dse এর ওয়েবসাইটকে বতর্মান ডিজিটাল যুগ অনুযায়ী আপডেটেড রাখা প্রয়োজন। কিছু কিছু তথ্য মাসের পরিবর্তে সাপ্তাহিকে নিয়ে আসা যেন কোন পরিচালক নোটিশ ছাড়া কোন শেয়ার সেল করতে না পারে।
সর্বশেষে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়া মানে হুজুগে বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে জেনে শুনে বিনিয়োগ করা এবং Smart ইনভেস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। মোট কথা সকল শ্রেনীর বিনিয়োগকারীদের Smart বিনিয়োগ করা আর সজাগ ও সচেতনতার মাধ্যমেই কমিশনকে সহায়তা করা যার সুফল শেয়ার বাজারে সকল স্তরের উন্নয়ন তরান্বিত করা। আর তবেই প্রবাদ বাক্যের মত শেয়ার বাজারের স্বাধীনতা অর্জন এর রক্ষা করা সম্ভব হবে।।
লেখক : শেয়ার গবেষক ও বিশ্লেষক মো: আব্দুল মতিন (রাজশাহী)
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/রু.






















Recent Comments