ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ‘আমার বাচ্চা ভাত, আলু আর নুডলস ছাড়া কিছুই মুখে তুলতে চায় না!’, ‘সবজি দেখলেই ও কান্নাকাটি শুরু করে’—বাঙালি মা-বাবাদের আড্ডায় কিংবা প্যারেন্টিং গ্রুপগুলোয় এটি অত্যন্ত পরিচিত একটি চিত্র।
জোর করে, বকাঝকা করে কিংবা মারধর করেও অনেক সময় লাভ হয় না। উল্টো বাচ্চার মনে সবজির প্রতি এক ধরনের ভয় ও অনীহা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটবেলা থেকেই মিষ্টি খাবারের প্রতি বাচ্চাদের ঝোঁক বেশি থাকে। তাই হুট করে করলা, পুঁইশাক বা ব্রকলি তাদের মুখে রোচে না। কিন্তু খাবারে শাকসবজি না থাকলে শিশুর বুদ্ধিমত্তা, মনোযোগ ও পড়াশোনার ওপর এর ভীষণ নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তাহলে উপায়? বিজ্ঞান বলছে, জোর না করে কৌশলী হোন। গবেষকদের মতে, প্রতিদিনের খাবারের অভ্যাসে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আনলেই বাচ্চারা নিজে থেকেই সবজি খাওয়া শুরু করবে। জেনে নিন বিজ্ঞানসম্মত এমন ৬টি দারুণ ট্রিকস:
১. পাঁচ বছর বয়সের আগেই অভ্যাস করান
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিডসের গবেষকদের মতে, বাচ্চার বয়স ৫ বছর হওয়ার আগেই তাকে যত বেশি সম্ভব বিভিন্ন ধরনের সবজির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ফ্রিকোয়েন্ট এক্সপোজার’। বাচ্চার সামনে বারবার সবজি নিয়ে আসুন। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি নতুন খাবারকে আপন করে নিতে একটি শিশুর ৫ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই প্রথমবার না খেলে হাল ছাড়বেন না।
২. সবজি দিন সবার আগে
বাচ্চা যখন টেবিলে খেতে বসে, তখন তার ক্ষুধা থাকে তুঙ্গে। বাঙালি মায়েরা সাধারণত প্লেটে আগে ভাত ও মাছ-মাংস দেন, পেট ভরে যাওয়ার পর সবজি মুখে দিতে চান। বিজ্ঞান বলছে, ঠিক উল্টোটা করুন। বাচ্চা যখন ভীষণ ক্ষুধার্ত, তখন প্লেটে সবার আগে সবজি বা সবজির তৈরি কোনো হালকা পদ দিন। ক্ষুধা পেটে তারা সবজিটাই আগে খেয়ে নেবে। এ ছাড়া সকালের ডিমের অমলেটে মাশরুম বা পালং শাক কুচি মিশিয়েও দিতে পারেন।
৩. মাংসের পরিমাণ কমিয়ে সবজি লুকান
যদি বাচ্চা আলাদাভাবে সবজি খেতেই না চায়, তবে রান্নার অনুপাতে বদল আনুন। নুডলস, পাস্তা বা চিকেন কারি তৈরির সময় মাংসের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে গাজর, বরবটি বা পেঁপে একদম কুচি করে সস বা ঝোলের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্লেটে স্বাস্থ্যকর উপাদানের পরিমাণ ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিলে বাচ্চার অজান্তেই সবজি খাওয়ার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়।
৪. চোখের দেখায় আনুন টুইস্ট
আমরা মুখে দেওয়ার আগে খাবারটা কিন্তু চোখ দিয়ে দেখি। শিশুদের ক্ষেত্রেও তাই। সবজি কাটার সময় একটু ক্রিয়েটিভ হোন। গাজর বা শসা স্রেফ গোল করে না কেটে যদি প্রজাপতি, ফুল কিংবা মিকি মাউসের শেপে কেটে প্লেটে সুন্দর করে সাজিয়ে দেন, তবে বাচ্চার কাছে তা খেলার ছলে আকর্ষণীয় মনে হবে। এ ছাড়া প্লেটের বিভিন্ন খোপে আলাদা আলাদা রঙের সবজি রাখলে প্রি-স্কুলের শিশুরা ৩৬ শতাংশ বেশি সবজি খায় বলে গবেষণায় প্রমাণিত।
পরিবারের বড়রা যা করেন, শিশুরা অবিকল সেটাই শেখে। আপনি নিজে যদি ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিংকস বা রিচ ফুড খান আর বাচ্চাকে সবজি খেতে বাধ্য করেন, তবে তা কখনোই কাজ করবে না। সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে খাওয়ার অভ্যাস করুন এবং নিজেরা তৃপ্তি সহকারে শাকসবজি খান। মা-বাবাকে খেতে দেখলে বাচ্চার মনেও সেই খাবারের প্রতি কৌতূহল ও ভরসা তৈরি হয়।
৬. খাবার নিয়ে খেলতে দিন, রান্নায় জড়ান!
বিজ্ঞান বলছে, খাবার নিয়ে শিশুদের ‘সেন্সরি প্লে’ বা খেলা করতে দিলে নতুন খাবারের প্রতি তাদের ভয় কেটে যায়। বাচ্চাকে রান্নার সময় সবজি ধুতে বা বাছতে সাহায্য করতে বলুন। কাঁচা গাজর, ক্যাপসিকাম বা টমেটো হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে দিন, ঘ্রাণ নিতে বলুন। কোনোরকম জোর না রেখে যখন তারা একদম ফ্রেশ মুডে সবজি নিয়ে নাড়াচাড়া করবে, তখন ধীরে ধীরে সেটির স্বাদ নেওয়ার মানসিকতাও তাদের মধ্যে তৈরি হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ





























Recent Comments