
ডেইলী শেয়ারবাজার ডেস্ক
দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে ভয়াবহ এক সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস। শুক্রবার তারা বলেছে, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান মিলে দ্রুতগতিতে করোনাভাইরাসের নতুন এপিসেন্টার হয়ে উঠছে। এ অঞ্চলে উদ্বেগজনকভাবে বিস্তার ঘটছে এই ভাইরাসের। অপর্যাপ্ত ব্যবহার গ্রহণ করার কারণে অল্প কিছু দেশে, প্রথমত ভারতে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। একই অবস্থা হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। এর মধ্যে আগামী ৬ মাসে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহভাবে সংক্রমিত দেশ হবে ভারত। দিনে সেখানে আক্রান্ত হতে পারেন ২ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ। ‘রেডক্রস ব্রেসেস ফর কোভিড-১৯ স্পাইক ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস।
এতে রেডক্রসের এশিয়া প্যাসিফিকের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা জন ফ্লেমিং বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্বেগজনক হারে বিস্তার ঘটছে কোভিড-১৯।
এতে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকায় করোনার ভয়াবহতার দিকে এখন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি। তবে এ সময়ে দ্রুতগতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় এক মানবিক ট্র্যাজেডির আবির্ভাব হচ্ছে। কোভিড-১৯ উদ্বেগজনক গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। এখানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশের বাস। এতে আরো বলা হয়েছে, এরই মধ্যে ভারতে দশ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ মানুষের এই দেশে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ চেক দিতে কর্তৃপক্ষ সংগ্রাম করছে। প্রতিদিন ভারতে মারা যাচ্ছেন ৬ শতাধিক মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে মনে করা হয়েছিল ভারতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফলে লকডাউন অনেক স্থানে শিথিল করা হয়। কিন্তু আবার ভয়ঙ্কর আকারে সংক্রমণ দেখা দেয়ায় ১৩০ কোটি মানুষের এই দেশে নতুন করে লকডাউন দেয়া হয়েছে। শুক্রবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে ডাটা প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে সেখানে মোট করোনা আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে ১০ লাখ ৩ হাজার ৩৮২ জনের।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিলের পর বিশ্বে ঘনবসতিপূর্ণ তৃতীয় দেশ ভারত। ভারতের তুলনায় ওই দুটি দেশে মৃত্যু হয়েছে অনেক বেশি মানুষের। এখন পর্যন্ত মুম্বই ও নয়াদিল্লির মতো মেগাসিটিগুলো করোনার হটস্পট। কিন্তু ছোট শহর অথবা গ্রামীণ এলাকা যেখানে ভারতের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ বাস করেন, সেখানে এলার্ম দেয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে গোয়া পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে সেখানে লকডাউন দেয়া হয়। আরোপ করা হয়েছে তিনদিনের শাটডাউন এবং ১০ই আগস্ট পর্যন্ত নৈশকালীন কারফিউ দেয়া হয়েছে। ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার নতুন কোভিড-১৯ হটস্পটগুলোর দিকে অধিক দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন আমাদের। বিশ্বের বাকি অংশের মানুষের চেয়ে ভারতের মানুষের জীবনের মূল্য কম নয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, এরই মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ মিলে কমপক্ষে ১৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা বিশ্বে মোট আক্রান্তের শতকরা ১০ ভাগের বেশি। এই তিনটি দেশ মিলে কমপক্ষে ৩১ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-এর গবেষকদের সর্বশেষ প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, সামনের মাসগুলোতে ভারতে সবচেয়ে বেশি মানুষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমআইটি’র গবেষকরা আরো পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এ বছরের শেষ নাগাদ এ অঞ্চলে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এ অঞ্চলের জন্য তাৎক্ষণিক পূর্বাভাসও সমান ভয়াবহ। ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন জনস হপকিন্স সেন্টার থেকে যে তথ্য সংগ্রহ করেছে সে মতে, আগামী ১০ দিনে ভারতে করোনার অ্যাকটিভ কেস বৃদ্ধি পাবে শতকরা ৩৬ ভাগের বেশি। পরবর্তী ২০ দিনে এই হার হতে পারে প্রায় দ্বিগুণ।
জন ফ্লেমিং বলেন, এখন জরুরিভিত্তিতে আমাদেরকে দৃষ্টি ফেরাতে হবে এই অঞ্চলে। জরুরিভিত্তিতে নিতে হবে সুরক্ষার ব্যবস্থা। আমাদের রিসোর্সগুলো বৃদ্ধি করতে হবে লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করতে। তিনি আরো বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে আমরা জানি ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সহ অনেক দেশ করোনাভাইরাসের বিস্তারে ধীরগতি আনতে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নিয়েছে। এই উদ্যোগের সঙ্গে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক প্রচারণায় অংশ নিয়েছে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ রেডক্রসের স্বাস্থ্য বিষয়ক টিম। যারা স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে রয়েছেন তাদেরকে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সমাজের সব পর্যায়ে, সব সম্প্রদায়ের মধ্যে, সব সংগঠনে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এসব চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলায় আমাদেরকে দ্বিগুণ প্রচেষ্টা নিতে হবে। জরুরিভিত্তিতে আমাদের আরো সম্পদ প্রয়োজন, যা দিয়ে মানুষকে রক্ষা করা যাবে এবং এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
































Recent Comments