রচিত হয়ে গেল নতুন ইতিহাস। রেঁসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই। আর এই ম্যাচ দিয়েই দ্বিতীয় অভিষেক হয়ে গেল লিওনেল মেসির। তবে পুরো সময় খেলেন নি আর্জেন্টাইন তারকা,তবুও ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছে প্যারিসের দলটি। দুটি গোলই করে মেসির পিএসজি অভিষেক রাঙিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। যার প্যারিস ছাড়া নিয়েও চলছে গুঞ্জন!

তবে রোববার রাতে ম্যাচের শুরু থেকেই সবার নজর আটকে ছিল পিএসজির বেঞ্চে, কখন নামবেন মেসি। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে শেষ হয় অপেক্ষা, মাঠে নামেন সময়ের সেরা তারকা। তার আগেই অবশ্য জোড়া গোল করে ম্যাচের গতিপথ ঠিক করে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
রেঁসের বিপক্ষে ৪-৩-৩ ছকে মাঠে নেমেছিল মাওরিসিও পচেত্তিনোর দল। গোলকিপার কেইলর নাভাসের সামনে দুই সেন্টারব্যাক হিসেবে ছিলেন ব্রাজিলের মার্কিনিওস ও জার্মানির থিলো কেহরার। ওদিকে রাইটব্যাক হিসেবে আছেন নতুন আসা আশরাফ হাকিমি, লেফটব্যাকে আবদু দিয়ালো। মাঝমাঠ আলো করেছেন ইতালির মার্কো ভেরাত্তি, সেনেগালের ইদ্রিদা গানা গেয়ে ও এই মৌসুমেই লিভারপুল থেকে আসা জর্জিনিও ভাইনালডম। আক্রমণভাগে এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো পিএসজির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। সঙ্গে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ও কিলিয়ান এমবাপ্পে তো ছিলেনই।
তবে এদিন ম্যাচেরই শুধু নয়, বিশ্ব ফুটবলের সব আলো যেন কেড়ে নিয়েছিলেন একজন- মেসি। বার্সেলোনা থেকে প্যারিসে নাম লেখানোর পর এদিনই যে পিএসজি অভিষেক হলো আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকরের! তবে অতিরিক্ত ৬ মিনিটসহ খেলেছেন মাত্র ৩১ মিনিট। আর তাতেই ফরাসি লিগের মন জয় করে নিয়েছেন সময়ের সেরা তারকা।
ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে পিএসজির জার্সি গায়ে মাঠে নামেন মেসি। প্রতিপক্ষের ভেন্যু রেঁসের স্তাদ অগোস্ত-দোলন স্টেডিয়ামে আসা গ্যালারিভর্তি দর্শকও যেন বসে থাকতে পারেনি হাত গুটিয়ে। দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে আরেকবার বরণ করে নিয়েছেন পিএসজির নতুন সেনসেশনকে।
ম্যাচে এমবাপ্পের সরব উপস্থিতি নিঃসন্দেহে রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের চিন্তা বাড়িয়ে দেবে। বেশ কদিন ধরেই এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদে যাবেন, এমনটা শোনা যাচ্ছে। এমনকি এমবাপ্পের জন্য ১৮ কোটি ইউরোর বড় একটা প্রস্তাবও পাঠিয়ে রেখেছে পিএসজি। এই অবস্থায় কোথায় দলবদলের বাকি কাজগুলো সারবেন তা না, রেঁসের হয়ে মাঠে নামতে হয়েছে ফরাসি তারকাকে। দলবদলের বাকি আছে আর মাত্র দুদিন। ফলে ৩১ আগস্ট শেষ হতে যাওয়া চলমান গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আদৌ এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদে যেতে পারেন কি না, সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
মাদ্রিদিস্তাদের কাছে যা চিন্তার, নিরেট ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তা ছিল নিখাদ আনন্দের বিষয়। তবে এমবাপ্পে যদি রিয়ালে চলেই যান, তাহলে একটি আক্ষেপ হয়তো পোড়াবে ফুটবল বিশ্বকে। আর তা হচ্ছে একই ক্লাবের জার্সি গায়ে একসঙ্গে মেসি-নেইমার-এমবাপ্পের খেলা দেখা। কেননা দলবদল শেষ হবার অঅগে এটাই যে ছিল একমাত্র ম্যাচ, যেখানে এই তিন মহারথীকে দেখার সুযোগ হতে পারতো। কিন্তু ম্যাচে মেসি যে নেমেছিলেন বন্ধু নেইমারের বদলি হিসেবে!
কোপা আমেরিকার ফাইনালের দেড় মাসের বেশি সময় পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে যে আলো ছড়াতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা। গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল প্রিয় তারকার নামে ‘মেসি, মেসি, মেসি…’ চিৎকার। যে চিৎকার থেমেছিল ম্যাচ শেষে ল্যাপ অব অনারের পর। শুরুর আগেই এ যেন বিজয়ী বরণ!





























Recent Comments