ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারে শেয়ার পার্কিং, লেনদেন সফটওয়্যারে কারসাজি এবং গ্রাহকদের অনিয়মতান্ত্রিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রোকারেজ হাউজ যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন থেকে এ বিষয়ে তদন্তের আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং শেয়ারবাজারে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এই তদন্ত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে গত ১২ জুলাই ও ১৮ আগস্ট কমিশনে পৃথক দুটি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় বিএসইসি।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ২১ নম্বর ধারা এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ১৭(ক) ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিএসইসির গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক মুহাম্মদ আল মাসুম মৃধা, সহকারী পরিচালক সৌরভ মল্লিক এবং মো. মারুফ হাসান।কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তের মাধ্যমে যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা, সম্ভাব্য অনিয়মের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।
তদন্ত কমিটি যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটালের গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং ঋণ হিসাব পরিচালনায় আইন ও বিএসইসির নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করবে।
একই সঙ্গে গ্রাহক কোড ব্যবস্থাপনা, ঋণাত্মক গ্রাহক কোড ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
অভিযোগ রয়েছে, স্পনসর বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকা শেয়ারের বিপরীতেও কিছু গ্রাহককে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকের হিসাবের প্রকৃত অবস্থার তুলনায় অতিরিক্ত ক্রয়ক্ষমতা দেখানো, বাজারদরের ভিত্তিতে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং শেয়ার না কিনেও অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্ত করবে কমিটি।
বিচ হ্যাচারি, মিডল্যান্ড ব্যাংক, রাঙামাটি ফুড প্রোডাক্টস, ফরচুন সুজ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং ও সিমটেক্সসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার এবং গ্রাহক কোডের লেনদেন তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
এসব লেনদেনে শেয়ার পার্কিং, সম্ভাব্য বাজার কারসাজি, অস্বাভাবিক বা উচ্চমূল্যে শেয়ার কেনা এবং প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ, বিপণন ও বিক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
এ ছাড়া কমিশন গ্রহণ, অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়া, অর্থ উত্তোলন এবং অতিরিক্ত ক্রয়ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো পক্ষ আর্থিক সুবিধা পেয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা করবে তদন্ত কমিটি।
যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটালের সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, লেনদেন ব্যবস্থা বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় অনুমোদন ছাড়া কোনো পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।
বিশেষ করে প্রযুক্তিগত কোনো পরিবর্তন বা কারসাজির মাধ্যমে গ্রাহকদের অতিরিক্ত ক্রয়ক্ষমতা, শেয়ার কেনাবেচা কিংবা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হবে।
তদন্ত কমিটি ঋণাত্মক স্থিতিতে থাকা হিসাবে লেনদেন, এ ধরনের সুবিধার আওতায় কেনার অনুপযোগী শেয়ার কেনা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্ভাব্য অপব্যবহারের ধরন ও পরিধিও নির্ধারণ করবে।
অভিযোগগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্ত করবে কমিটি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হবে।
তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় এবং সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি এসব ঘটনায় প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক বা শেয়ারবাজারের কোনো আর্থিক বা নিয়ন্ত্রক ক্ষতি হয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে।
তদন্ত চলাকালে নতুন কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের তথ্য সামনে এলে সেগুলোর সত্যতাও পরীক্ষা করার এখতিয়ার থাকবে কমিটির। তদন্ত শেষে কমিশনে জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments