বৃহস্পতিবার, ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিরাজস্ব বাড়ানাের কৌশলে সুফল পাওয়া যাচ্ছে
spot_img
spot_img

রাজস্ব বাড়ানাের কৌশলে সুফল পাওয়া যাচ্ছে

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: কর-জিডিপির অনুপাত বা রাজস্ব বাড়াতে নানা কৌশল নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। করের আওতা আরও বাড়াতে সাধ্যমতো চেষ্টা করা হচ্ছে। যে কোনো মূল্যে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী (টিআরপি) নিয়োগের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হবে।

গতকাল সোমবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম এসব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনায় ইআরএফের পক্ষ থেকে ৩৫টি বাজেট প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ইআরএফ সদস্য ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশেষ প্রতিনিধি দৌলত আক্তার মালা।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ২০২০ সালের জুনে আয়কর রিটার্ন দাখিল হয় ২১ লাখের মতো। গত জানুয়ারি পর্যন্ত সেটি ৩৬ লাখে উন্নীত হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী জুন পর্যন্ত এটি ৪০ লাখ হবে। এনবিআরের প্রচেষ্টার কারণেই চার বছরে রিটার্ন দাখিলের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এ খাতের রাজস্ব গত অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি ৩০ শতাংশ হতে পারে। ২০২০ সালে ভ্যাট নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল দুই লাখ। এখন সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার। চলতি অর্থবছর শেষে আশা করা যাচ্ছে, এটি বেড়ে হবে ৫ লাখ।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, করের আওতা বাড়াতে সাধ্যমতো চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অনেকেই স্টেজে দাঁড়িয়ে এটি নিয়ে সমালোচনার পর আবার কর অব্যাহতির আবেদন করেন। করের আওতা বাড়াতে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী বা টিআরপি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আদালতে মামলা করার কারণে কিছুটা সময় লাগছে। তবে যে কোনো মূল্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। অনেকের অভিযোগ, গ্রাম-গঞ্জে এখন অনেক কোটিপতি; তারা ট্যাক্স দেন না। তাদের ধরে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু গ্রামে গিয়ে তাদের ধরে নিয়ে আসতে হবে কেন? টিআরপিরা করদাতা খুঁজবেন। গ্রাম-গঞ্জে অফিস স্থাপন করে যে আয় হবে, তার চেয়ে পরিচালন ব্যয়ই দেখা যাবে, বেশি হচ্ছে। তাই টিআরপিরা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গ্রাহক কিছু কিনেছেন কিন্তু ইনভয়েস নিচ্ছেন না। এতে সেই ভ্যাট আমাদের কাছে আসে না। কিন্তু দোকানে যে ইলেকট্রিক মেশিন বা ইএফডি মেশিন রয়েছে, সেখান থেকে যদি গ্রাহকরা ইনভয়েস নেন, তাহলে সরকার ভ্যাটের ওই টাকা অবশ্যই পাবে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সচেতন হতে হবে।

ইআরএফের প্রস্তাব: অনুষ্ঠানে ইআরএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, মূল্যস্ফীতির বর্তমান সময়ে বেশি চাপে পড়েছেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। তাদের ওপর চাপ কমাতে নিত্যপণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা উপকরণের ওপর করহার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি করমুক্ত ব্যক্তি আয়ের সীমা সাড়ে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা দরকার। ইআরফের অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে– বাড়তি দেওয়া কর এমএফএসের মাধ্যমে ফেরতের ব্যবস্থা; যাদের করযোগ্য আয় নেই, তাদের ব্যাংক সুদের ওপর কেটে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া; বেসরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডকে করমুক্ত রাখা; ব্যাংকে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমার ওপর আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার, মুনাফার ওপর কর কমানো ইত্যাদি। ইআরএফের প্রস্তাবনায় বলা হয়, বড় ঋণ অনুমোদনের আগে এনবিআরের নির্দিষ্ট ডেটাবেজ থেকে ব্যবসায়িক তথ্য নেওয়া বাধ্যতামূলক করা দরকার। এতে ঋণ জালিয়াতি কমবে; রাজস্ব আদায় বাড়বে।

আরও কয়েকটি সুপারিশ হচ্ছে– প্রত্যক্ষ করের দিকে জোর দেওয়া; সমন্বিত ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম হাতে নেওয়া; জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) মতো মধ্যম করদাতা ইউনিট বা এমটিইউ খোলা; এ ছাড়া হয়রানিমুক্ত কর পরিশোধে সব পর্যায়ে বাধ্যতামূলক অনলাইন ব্যবস্থা চালু; উপজেলা পর্যায়ে এনবিআরের কার্যক্রম বাড়ানো; রপ্তানিতে তৈরি পোশাকশিল্পের মতো অন্য সম্ভাবনাময় খাতে বন্ডেড সুবিধা দেওয়া ইত্যাদি।

অনুষ্ঠানে এনবিআরের সদস্য (কাস্টমস নীতি) মাসুদ সাদিক, সদস্য (করনীতি) একেএম বদিউল আলম, ইআরএফ সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মীরধা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments