ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: গতকাল মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চিত্রনায়ক ইমনকে ছেড়ে দিয়েছে র্যাব। গতকাল রাতে র্যাব সদর দপ্তর থেকে বেরিয়ে কথা বলেন এ অভিনেতা।

ইমন জানান, আমি নিজ থেকেই গিয়েছিলাম। কারণ, রোববার রাতে অডিওটা ফাঁস হওয়ার পর থেকে আমার মুঠোফোনে অসংখ্য অপরিচিতি ফোনকল আসছিল। বিষয়টি আমার ভালো লাগেনি। তা ছাড়া আমার ফেসবুক আইডি ও পেজ নিয়েও চিন্তিত ছিলাম। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়াতে নোংরাভাবে একশ্রেণির মানুষ আমার উপস্থাপন করে যাচ্ছিল। তাই ভাবলাম, নিজের ফেসবুক আইডি ও পেজটার সুরক্ষা দরকার। কারণ, হ্যাক করে তা থেকে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। এ জন্য গোয়েন্দা অফিসের সাইবার সেকশনে গিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে তারা আমাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।
যে ঘটনা ঘটে গেছে, তা তো সাধারণ ব্যাপার নয়; একটি স্পর্শকাতর ব্যাপার। এখন রাষ্ট্রীয় বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। যেহেতু আমার মুঠোফোন থেকেই মন্ত্রীর সঙ্গে মাহির কথোপকথন হয়েছে, বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানার জন্য র্যাবের গোয়েন্দা শাখা থেকে আমাকে ডাকা হয়েছিল। আমি প্রায় চার ঘণ্টা র্যাবের অফিসে ছিলাম। র্যাবের বড় বড় কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পুরো বিষয়টি আমার কাছে শুনেছেন। ফোন রেকর্ড বা ফোনালাপ ফাঁসের বিষয়টি আমার কাছ থেকে হয়েছে কি না, সেটাও জানতে চেয়েছেন তাঁরা। আমি বলেছি, রেকর্ড বা ফোনালাপ ফাঁসের সঙ্গে আমি জড়িত নই। এর বাইরে যা যা জানতে চেয়েছেন, সব সত্য বলেছি। কারণ, আমি তো কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নই। সে বিশ্বাস থেকেই সব বলেছি। তা ছাড়া তাঁদের হেফাজতে আমার মুঠোফোনটিও চার ঘণ্টা ছিল। আমার কথা ও মুঠোফোন যাচাই-বাছাই করে আমার প্রতি তাঁরা খুশি। আসার সময় তাঁরা আমাকে বলেছেন, বাসায় গিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমান। উই আর হ্যাপি উইথ ইউ।
হ্যাঁ, ডাকতে পারে। তাঁরা বলেছেন, দরকার হলে আবার ডাকবেন। আমিও তাঁদের কথা দিয়েছি, যেকোনো সময় এ বিষয়ে আমাকে ডাকলেই তাঁদের সহযোগিতা করব। এ ছাড়া মাহির বিষয়েও বলেছেন তাঁরা। মাহি দেশে ফিরলে হয়তো তাঁর সঙ্গেও তাঁরা কথা বলবেন। তাঁর কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাইবেন। কারণ, তাঁর সঙ্গেই ফোনে অশ্লীলভাবে কথা বলা হয়েছে।
দুই দিন ধরে খুবই আপসেট ছিলাম। এসব বিষয়ে কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলাম না। শেয়ারও করতে পারছিলাম না। ডিবি ও র্যাব কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের ব্যবহারে আমি মুগ্ধ! আমি যে দোষী নই, এ বিষয়ে আমার আগেই আত্মবিশ্বাস ছিল। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর আমার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে। তবে ভয় নেই, মানসিক চাপ আছে এখনো। কারণ, এখনো ফেসবুকে আমার ছবি ব্যবহার করে, স্ট্যাটাস লিখে যেভাবে আমাকে বিকৃত করা হচ্ছে। এ বিষয়গুলো আমাকে বেশি পীড়া দিচ্ছে। পরিচিতরাও কেউ কেউ আমাকে নেগেটিভভাবে উপস্থাপন করছেন। খুবই দুঃখজনক। তবে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আমি যে আস্থা পেয়েছি, তাতে মানসিকভাবে শক্ত থাকার চেষ্টা করছি।
আমাকে নিয়ে ফেসবুকে আজেবাজে মন্তব্য করা হচ্ছে। সেসব বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারে লোকজনের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এ বিষয়ে তারা জানছে, দেখছে। তাদের কাছে বিষয়টি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। কারণ, তারা আমাকে ভালোভাবেই চেনে-জানে। এ কারণে আমাকে মানসিক সাপোর্ট দিচ্ছে পরিবার। তবে আমার বাবা একটু বেশি ভেঙে পড়েছেন।
না। ঘটনা ঘটার পর থেকে সমিতির ২১ সদস্যের একজনও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। কোনো খোঁজখবরও নেননি। মাথায় এত বড় চাপ নিয়ে আমি আমার মতো করে সামাল দিচ্ছি। সমিতির এমন আচরণ আমাকে হতাশ করেছে। খুব খারাপ লেগেছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/পি.



























Recent Comments