মঙ্গলবার, ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeজাতীয়শিশু নির্যাতন ও হত্যা-আত্মহত্যা বেড়েছে
spot_img
spot_img

শিশু নির্যাতন ও হত্যা-আত্মহত্যা বেড়েছে

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশে গত ছয় মাসে মোট ৮০৪ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছে ১০৯ শিশু। মোট ২২৩ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময় ১০৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। বলাৎকারের শিকার হয় ২৭ জন ছেলে শিশুও। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা থেকে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

সংস্থা দুটি জাতীয় গণমাধ্যম ও নিজেদের কিছু সোর্সের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের গত ছয় মাসের নারী ও শিশু নির্যাতনবিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ সময় ৭৭৯ জন কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়। ধর্ষণের শিকার হয় ২২৩ জন কন্যাশিশু। একই সময় ১০৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। নারীর চেয়ে শিশুধর্ষণের শিকার হয় ১০৬ শতাংশ বেশি।

আসক পর্যবেক্ষণ বলছে, এক বছরে শিশু নির্যাতন বেড়েছে ৫ শতাংশ। গত ছয় মাসে ২৪৬ জন শিশুকে হত্যা করা হয়। এ সময় আত্মহত্যা করেছে ৪৫ শিশু। বিভিন্ন সময়ে মোট ৮৭ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে চার শিশুর।

বিজ্ঞজনরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে নারীর চেয়ে শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। শিশুরা যৌন নির্যাতনের ঝুঁকিতে আছে। আর এই অপরাধের সঙ্গে যুবক ও কিশোররা বেশি জড়িত। সমাজ কিশোরদের যথাযথ শিক্ষা দিতে পারছে না। পারিবারিক ও যৌনশিক্ষা এবং শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা, পুনর্বাসন ও নিজেকে শুধরে নেওয়ার সুযোগ কম থাকা এমন নানা কারণকে এজন্য দায়ী করেন তারা।

মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন মতে, গত ছয় মাসে ২০টি বাল্যবিবাহ ঘটে। ১৪টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়। মহিলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। কারণ, সব ঘটনা গণমাধ্যমে আসে না।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য মতে, গত ছয় মাসে ছয় বছরের মধ্যে ২১ জন শিশু এবং ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে ৩২ জন শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর হত্যা হরা হয় ৯ জন শিশুকে। এ সম্পর্কিত কারণে আরো চার শিশুকে হত্যা করা হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু বলেন, প্রতিনিয়তই শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে বাস করছে। এসব অপরাধের সঙ্গে শিশুর নিকটাত্মীয় ও পারিবারিক বন্ধুরা জড়িত। আরো দুঃখের বিষয় এই কাজের সঙ্গে তরুণরাই বেশি জড়িত। আমরা তরুণদের সঠিক শিক্ষা দিতে পারছি না। ফলে তারা নানাভাবে বিপথে যাচ্ছে।

মহিলা পরিষদ বলছে, গত ছয় মাসে মোট ৭৩২ জন কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়। ছয় বছর বয়সের মোট ২১ জন শিশুকে এ সময় ধর্ষণ করা হয়। আসকের ছয় মাসের শিশু অধিকার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ সময় ২৭ জন ছেলে শিশু বলাৎকারের শিকার হয়। এক জন ছেলে শিশুকে বলাৎকারের পর হত্যা করা হয়।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা বলেন, মাদ্রাসায় ও দুর্যোগের সময়গুলোতে ছেলে শিশুর বলাৎকার বেশি ঘটে।

১৯৯৬ সালে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের এক গবেষণায় জানা যায়, প্রতি ১০ জনে ৭ জন মেয়ে শিশু ও প্রতি ১০ জনে ৫ জন ছেলে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ছেলে শিশুর যৌন নির্যাতন সাধারণ মানুষ মেয়ে শিশুর মতো মনে করে না। তারা চেপে যায় প্রকাশ করে না।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সমন্বয়ক সাফিয়া সামি বলেন, ছেলে শিশু বলাৎকার আগেও হতো, কিন্তু মানুষ প্রকাশ করত না। এখন তা প্রকাশ পাচ্ছে, তবে সংখ্যায় অনেক কম। এসব ঘটনা প্রকাশ প্রতিকার ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন সাফিয়া।

এ অবস্থা পরিবর্তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কিশোররা নানাভাবে বিভ্রান্ত হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ে জড়াচ্ছে। এগুলো রুখতে যেমন আইন প্রয়োজন, তেমন তাদের মানসিক পরিবর্তন ঘটানোর জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের শুধরানোর সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি পারিবারিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রজনন ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/আই.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments