ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শীতের এই সময়টা সবারই কমবেশি আনন্দে কাটে। ছোটদের পরীক্ষা শেষ, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়াদের চলে সেমিস্টার ব্রেক, অফিস থেকেও অনেকে পেয়ে যান বার্ষিক ছুটি। মূল্যবান এই ছুটির দিনগুলো ঘরের মধ্যে না কাটিয়ে বেশির ভাগই কোথাও ঘুরে আসতে চান। কিন্তু যখন অনেক পরিকল্পনার পরও পছন্দমতো হোটেল আর পরিবহন পাওয়া যায় না, সমস্যাটা শুরু হয় তখনই। চলুন, দেখে আসি শীতের ভ্রমণ কীভাবে হতে পারে নির্ঝঞ্ঝাট।

বাংলাদেশে ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কক্সবাজার আর সিলেট সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা। শীতের এই সময়টা কক্সবাজারের সমুদ্রের নীলে কিংবা চায়ের রাজ্যের সবুজে সবুজে কাটানোর পরিকল্পনাটা আসলেও লোভনীয়। তবে যেখানেই ঘুরতে যাই, প্রথম সমস্যা যাতায়াত। পরিবারের সঙ্গে গেলে বাসের তুলনায় ফ্লাইটটাই বেশি উপযোগী। না হলে স্বল্প ছুটির প্রায় অর্ধেকই পার হয়ে যায় রাস্তায় রাস্তায়। এসি বাসের তুলনায় ফ্লাইটের খরচ আজকাল খুব একটা বেশি নয়। বাস নাকি প্লেন—এই বিভ্রান্তির সমাধান করতে দামগুলো ঠিকমতো যাচাই করা দরকার। এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটা ফ্লাইট ও বাস টিকিটের দাম তুলনা করে নিতে পারেন ‘গো জায়ান’ থেকে। অনায়াসেই কেটে ফেলতে পারবেন টিকিট।
শীতকালটা কক্সবাজার ঘোরার উপযুক্ত সময়। থাকে না বেশি রোদ বা বৃষ্টির চিন্তা। সমুদ্রপাড়ের মৃদু ঠান্ডা হাওয়ায় খুব ভালোভাবেই কেটে যাবে ছুটির দিনগুলো। তা ছাড়া হোটেলের দিক দিয়ে কক্সবাজারে পাওয়া যায় অনেকগুলো বিকল্প। হোক পারিবারিক ভ্রমণ কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি—সবার জন্যই উপযুক্ত হোটেলের সন্ধান পাওয়া যায়। পারিবারিক ভ্রমণের জন্য একটু আরামদায়ক হোটেলগুলোই বেশি উপযোগী। আবার বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে গেলে প্রয়োজন কিছুটা কম খরচের মধ্যে থাকার ব্যবস্থা। শুধু সমুদ্র দেখেই আবার অনেকে সন্তুষ্ট নন, তারা ভ্রমণটিকে করতে চান আরও রোমাঞ্চকর। রেজুখালে কায়াকিং কিংবা খোলা আকাশের নিচে ক্যাম্পিং—এ ধরনের কর্মকাণ্ড দিয়েই মিটিয়ে নিতে পারেন অ্যাডভেঞ্চারের তৃষ্ণা। আরও আছে ট্যুরিস্ট ক্যারাভান, যা ছাদখোলা বাসে করে আপনাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াবে দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।

পাহাড় দেখার শখ থাকলে গন্তব্য হওয়া দরকার সিলেট। লালাখালের টলমলে নীল সবুজ পানি, রাতারগুলের জলবন, খাসি পাহাড়ে ঘেরা বিছনাকান্দির স্বচ্ছতা আর রংবেরঙের পাথর—শান্তিতে কয়েকটি দিন কাটানোর জন্য এমন অনেকগুলো প্রাকৃতিক আকর্ষণ আছে চায়ের রাজ্য সিলেটে। এখানে পাওয়া যাবে চমৎকার কিছু রিসোর্টের অপশনও। ট্যুরটাকে আরও বেশি আরামদায়ক করতে যেতে পারেন দ্য প্যালেস, দুসাই, নাজিমগড় ইত্যাদি রিসোর্টে। রিসোর্টের মধ্যেই পেয়ে যাবেন বেশ কিছু আনন্দ আয়োজন। তবে যে কারণে এই বিভাগের নাম হোল ‘চায়ের রাজ্য’, সেই চা-বাগান পাবেন শ্রীমঙ্গলে। পাহাড়ি রাস্তার দুই পাশে সারি সারি চা–গাছের সবুজে ভুলে থাকা যায় শহুরে জীবনের হাজারো দুশ্চিন্তা। শুধু চা-ই নয়, শ্রীমঙ্গলে আরও আছে মাধবপুর লেক, লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক আর আশ্চর্যজনক সেই সাত রঙের চা। এই জায়গাগুলো ঘোরার জন্য শীতকালের থেকে বেশি উপযুক্ত সময় আর পাবেন না।
উপযুক্ত সময়ে ভ্রমণে যাওয়ার সমস্যা এটিই। ভিড় অনেক বেশি। শেষ মুহূর্তে হোটেল বা গাড়ি, যেকোনো কিছু খুঁজতে গেলেই পড়তে হবে বিপাকে। বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে আগেভাগেই যেন হোটেলের ব্যবস্থাটা করে নেওয়া হয়। কিন্তু একটা জায়গায় যাওয়ার আগেই সেখানের হোটেল রিসোর্ট সম্পর্কে কীভাবে ধারণা পাবেন? একই জায়গায় যদি হোটেল, অ্যাকটিভিটি, যাতায়াতের ব্যবস্থা—সবই পাওয়া যায়, তবে তো বেশ হয়। এসব সমস্যার সমাধান দিতে পারে গো জায়ান। অ্যাকুয়াহলিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভান, রেডিয়্যান্ট ফিস ওয়ার্ল্ড, রেজুখালে কায়াকিং, সাম্পানে চড়ে সমুদ্র ভ্রমণ— ঝামেলাহীনভাবে বুক করতে পারেন তাদের ওয়েবসাইটে। নিশ্চিত বেস্ট ডিল পেয়ে যেতে পারেন কিছুটা ঘাঁটাঘাঁটি করলেই। হোটেল বুকিং দেওয়ার ক্ষেত্রেও ছবিসহ হোটেলের প্রতিটি রুম, তার সুযোগ-সুবিধা, খাবারের ব্যবস্থা আগে থেকেই জেনে নিয়ে নিশ্চিন্তে চলে যেতে পারবেন আপনার ট্যুরে।
বেড়াতে যাওয়ার সময় দায়িত্ব নিতে হয় অনেক জিনিসের। পছন্দমতো হোটেল পাওয়া, যাতায়াতের ব্যবস্থা করা, কী কী আয়োজনে অংশগ্রহণ করা যায় তা খুঁজে বের করা—এসব চিন্তাই ঘুরতে যাওয়ার শান্তি নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। সবকিছু এক জায়গা থেকে নিশ্চিত করতে পারলেই কষ্টটা অনেকটা কমে যায়। ব্যস্ত জীবনের অল্প কিছু আনন্দের মুহূর্ত উটকো ঝামেলা দিয়ে নষ্ট করবেন কেন? ডিজিটাল দুনিয়াতে ডিজিটাল উপায়ে পরিকল্পনা করুন। নিজের ভ্রমণকে নিজের পছন্দমতো সাজাতে পারার স্বাচ্ছন্দ্য আপনার ভ্রমণ করে তুলবে আরও আনন্দময়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/পি.



























Recent Comments