ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ফিলিস্তিনি ট্রাকচালক হাজেম ইসলিম, গত মাসে ত্রাণ সহায়তার আটার বস্তা নিয়ে দক্ষিণ গাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখন সংঘবদ্ধ সশস্ত্র লুটপাটকারীরা তাঁর ট্রাক আটকায়। ১৩ ঘণ্টা আটকে রেখে তাঁর ট্রাক থেকে সব আটা লুট করে তারা। শুধু তাঁর ট্রাক নয়, ওই বহরে থাকা শতাধিক গাড়ির মালপত্র লুট হয়। যেগুলো জাতিসংঘ গাজায় পাঠিয়েছিল।
চালক হাজেম জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জন্য খুবই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ছিল। কিন্তু ত্রাণগুলো সাধারণ ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে না যাওয়ায় তিনি বেশি কষ্ট পেয়েছেন। দখলদার ইসরায়েলের হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নিরাপত্তা বাহিনী পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে লুটপাটকারীরা। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে আইন-শাসন একদম নেই বললেই চলে। সশস্ত্র লুটপাটকারীরা ত্রাণ লুট করে সেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে অতি চড়া দামে বিক্রি করছে, যা সেখানকার পরিস্থিতি আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একেকটি আটার বস্তা ২২০ ডলার সমমূল্যে বিক্রি করছে ওই চক্রটি। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল থেকে গাজায় প্রবেশের করিম আবু সালেম ক্রসিং দিয়ে আর কোনো ত্রাণ না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। তাদের শঙ্কা, ত্রাণের ট্রাক গেলেই সেগুলো লুটপাটের কবলে পড়তে পারে। এতে করে ক্রসিংয়ের অপর প্রান্তে থাকা শত শত ট্রাক আটকা পড়েছে।
গত মে মাসে হামাসের সর্বশেষ শক্ত অবস্থান রাফায় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এর পরই গাজার সার্বিক অবস্থার অবনতি হয়। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে এসব লুটপাট হতে দিচ্ছে।
এদিকে ক্ষুধার্ত এসব মানুষের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার সেনারা। গতকাল সোমবার রাতে বাস্তুচ্যুত মানুষের ক্যাম্প ও স্কুলে ড্রোন দিয়ে বোমা ফেলে তারা। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের একমাত্র চালু কামাল আদওয়ান হাসপাতাল খালি করে সেটি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ড্রোন হামলায় আল-মাওয়াসিরতে সাতজন এবং নিরাপত্তারক্ষী ও বেসামরিকদের বহনকারী গাড়িতে হামলায় আরও চারজন নিহত হন। অপরদিকে নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পের স্কুলে হামলা চালিয়ে আরও একজনকে হত্যা করে তারা। এতে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের চালানো বর্বরতার একটি নির্মম চিত্র তুলে এনেছে আলজাজিরা। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, চার মাস আগে সাইমা আল-দাক্কি নামের এক নারী তাঁর দুই সন্তানকে পোলিও টিকা খাইয়ে আনেন। যেন তাঁর সন্তানরা বিকলাঙ্গ না হয়। তবে টিকা খাওয়ানোর পরের দিনই তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে সাইমা আল-দাক্কি প্রাণ হারান। আর তাঁর দুই সন্তানই হারায় তাদের পা। যেখানে বিকলাঙ্গতা থেকে বাঁচতে তাদের পোলিও টিকা খাইয়েছিল তাদের মা, সেখানে ইসরায়েলি হামলায় চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছে তারা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.


































Recent Comments