শনিবার, ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিসবজি-ডিমের বাজার চড়া, কমেছে কাঁচা মরিচ-পেঁয়াজ-রসুনের দাম
spot_img
spot_img

সবজি-ডিমের বাজার চড়া, কমেছে কাঁচা মরিচ-পেঁয়াজ-রসুনের দাম

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: রাজধানীর খুচরা বাজারে সবজির দাম এখনো বেশ চড়া। অধিকাংশ সবজি কিনতে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। বিপরীতে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, মুগদা, মানিকনগর, খিলগাঁও,মিরপুর ও মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারে দেখা গেছে, শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। কাঁকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ধুন্দল হাইব্রিড ৭০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কচু ১০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের ফুলকপি ১০০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে ঢেঁড়স, কাঁকরোল, পটল, ধুন্দুল, কচুরমুখী ও কচুর লতির সরবরাহ বাড়ার কথা। ফলে এ সময়ে এসব সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে বাজারে তা দেখা যাচ্ছে না। বরং বেশির ভাগ সবজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে অস্বস্তি থাকলেও কাঁচা মরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ৪০০ টাকা বা তার বেশি উঠেছিল। গত সপ্তাহে তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে শনিবার খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ পাওয়া যাচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী তৌফিক বলেন, কাঁচা মরিচের দাম কমলেও সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম এখনো বেশি। গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম কমতে শুরু করলেও এতে মোট বাজার খরচে তেমন প্রভাব পড়ছে না।

বাজারে টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং এক হালি লেবু ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনিয়াপাতা ২৫০ টাকা ও হাইব্রিড ধনিয়াপাতা ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা ৫০ টাকা হালি এবং চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের মধ্যে লালশাক ও কলমিশাকের আঁটি ২০ টাকা, লাউশাক ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা এবং ডাটাশাক ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির পাশাপাশি রাজধানীর বাজারে প্রায় এক মাস ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও চড়া। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চারটি ডিম কিনতে ক্রেতাকে দিতে হচ্ছে প্রায় ৫৫ টাকা। এ হিসাবে এক ডজনের দাম দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা। তবে একসঙ্গে এক ডজন কিনলে কোথাও ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, ডিম ও মুরগির দাম মূলত বাজারের জোগান ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় দেশের অনেক লেয়ার খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে অনেক খামারের মুরগি ও ডিম নষ্ট বা ভেসে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবেই দাম বেড়েছে।

নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে চিনির দাম। গত এক সপ্তাহে খোলা চিনির দাম কেজিতে আরও ৫ টাকা বেড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছে। একই সঙ্গে অনেক বাজারে মোড়কজাত চিনির সরবরাহ কমে গেছে।

মিরপুরের বাজারে সাতটি মুদিদোকানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মাত্র দুটি দোকানে মোড়কজাত চিনি রয়েছে। পাঁচটি দোকানে পাওয়া গেছে খোলা চিনি। বেশির ভাগ দোকানে খোলা চিনি ১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও কোথাও কোথাও ১২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

গত সপ্তাহে খোলা চিনির দাম ছিল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। তার আগের সপ্তাহে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় চিনি পাওয়া গেছে।

বিক্রেতাদের দাবি, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও চিনির দাম বেড়েছে।

চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাকে একাধিক দোকান ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও মোড়কজাত চিনি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খোলা চিনি কিনতে হয়েছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দার দাম কেজিতে প্রায় ৩ টাকা বেড়েছে।

বর্তমানে খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে মোড়কজাত আটার দামও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে।

তবে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তিও রয়েছে। পেঁয়াজ, রসুন, আমদানি করা আদা এবং কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে।

পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন ও আদার দামও কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে দেশি রসুন ৭০ থেকে ১২০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১২০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments