ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: নেপালে সহিংস বিক্ষোভ ও প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর জেনারেশন জি’র তরুণরা নতুন সংবিধান এবং বিস্তৃত রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের দাবি তুলেছেন।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়া হোক, জনগণ, বিশেষজ্ঞ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংবিধান সংশোধন বা সম্পূর্ণ পুনর্লিখন করা হোক। এছাড়া অন্তর্বর্তীকাল শেষে স্বাধীন, সুষ্ঠু ও সরাসরি জনঅংশগ্রহণের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন, সরাসরি নির্বাচিত নির্বাহী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, গত তিন দশকের লুট হওয়া সম্পদের তদন্ত এবং অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয়করণের দাবিও রয়েছে।
তাদের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ—এই পাঁচ খাতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। বিক্ষোভে নিহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ স্বীকৃতি এবং তাদের পরিবারকে সম্মান ও সহায়তা প্রদানের দাবি তোলা হয়েছে। বেকারত্ব মোকাবিলা, অভিবাসন কমানো ও সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়, এটি গোটা প্রজন্ম ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য। শান্তি জরুরি, তবে তা সম্ভব কেবল নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে।” তারা আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও সেনাবাহিনী তাদের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বাস্তবায়ন করবেন।
এর আগে সোমবার জেনারেশন জি’র নেতৃত্বে বিক্ষোভে অন্তত ২২ জন নিহত হওয়ার পর শত শত মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করলে প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করেন। বুধবার ভোর থেকেই সেনাবাহিনী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে মোতায়েন হয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
তবে সরকারের পতনের পরও অস্থিরতা কমেনি। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেনাবাহিনী রাতেই দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং কাঠমান্ডু, ললিতপুর, ভক্তপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিছু গোষ্ঠী বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে এবং সরকারি সম্পত্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/আ
























Recent Comments