রবিবার, ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিসিন্ডিকেট ভাঙতে এলপিজির বাজারে নামছে বিপিসি
spot_img
spot_img

সিন্ডিকেট ভাঙতে এলপিজির বাজারে নামছে বিপিসি

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ক্রমেই কমে আসায় আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে আবাসিক গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর আধিপত্য কমিয়ে এলপিজির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বড় পরিসরে এলপিজি সরবরাহে নামার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

এ লক্ষ্যে মোংলা ও এলেঙ্গায় নতুন এলপিজি বোটলিং প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে দেড় বছরের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে এলপিজি ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতের গ্যাস সংকট বিবেচনায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার দুটি গ্যাস প্রকল্প বাতিল করে এলপিজি খাতে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাতিল হওয়া প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন এবং প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প।

তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মুহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, রাজধানীতে গ্যাসের সরবরাহ ধারাবাহিকভাবে কমছে, যার প্রভাব আবাসিক গ্রাহকদের ওপর পড়ছে। প্রতিবছরই তিতাস সিস্টেমে গ্যাস সরবরাহ কমছে এবং আগামী দিনে সংকট আরও বাড়তে পারে। বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে।

তিতাস সূত্র জানায়, রাজধানীর আবাসিক, বাণিজ্যিক, সিএনজি স্টেশন ও কিছু শিল্প গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৬ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট। ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে আগের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।

এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শামসুন্নাহার কণা জানান, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকায় গভীর রাতে রান্না করতে হয়। একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন আরও অনেক আবাসিক গ্রাহক।

শিল্প খাতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। গাজীপুরের কোনাবাড়ী, চন্দ্রা, সাভার, আশুলিয়া, মানিকগঞ্জ ও রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অনেক কারখানা আংশিক উৎপাদন চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন কমে যাওয়াই এ সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।

পেট্রোবাংলা ও তিতাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক গড়ে ১৬০ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিড ও তিতাসের সরবরাহও ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এ অবস্থায় রান্নার জ্বালানির বিকল্প হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে মাসে ১ লাখ ৬০ হাজার টনের বেশি এলপিজি ব্যবহার হলেও এর মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ সরবরাহ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান। বাকি চাহিদা পূরণ করে বেসরকারি খাত। সংশ্লিষ্টদের মতে, মাত্র ৮ থেকে ১০টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাজার নিয়ন্ত্রণ করায় কার্যত একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

এই আধিপত্য ভাঙতে মোংলায় ৬ দশমিক ৫ একর এবং এলেঙ্গায় ৭ একর জমিতে এলপিজি বোটলিং প্ল্যান্ট ও সংরক্ষণাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইতোমধ্যে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে বিপিসি।

এ ছাড়া মাতারবাড়ীতে বছরে ১২ লাখ টন এলপিজি সরবরাহ সক্ষমতাসম্পন্ন একটি স্থলভিত্তিক (ল্যান্ড-বেইজড) এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জাহাজ-টু-জাহাজ (এসটিএস) পদ্ধতিতে এলপিজি খালাসের জন্য একটি ভাসমান টার্মিনাল এবং চট্টগ্রামের বে-টার্মিনাল এলাকায় ২৫ হেক্টর জমিতে আরও একটি বৃহৎ সংরক্ষণ টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments