সোমবার, ২৪শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআজকের সংবাদসিমটেক্সের পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত: বিএসইসিকে কারণ দর্শাতে আদালতের রুল
spot_img
spot_img

সিমটেক্সের পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত: বিএসইসিকে কারণ দর্শাতে আদালতের রুল

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ পুন:গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কিন্তু এই পুন:গঠনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট দাখিল (রিট পিটিশন নং: 3912 of 2023) করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান ও স্বাধীন পরিচালক মো: সারওয়ার হোসেন এবং স্বাধীন পরিচালক শাহ মো. আসাদ উল্লাহ। তাদের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিএসইসির পুুন:গঠিত পর্ষদকে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন। বিচারপতি মাহমুদুল হক এবং মো: মাহমুদ হাসান তালুকদারে বেঞ্চে গেল ২ এপ্রিল এ আদেশ দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়, সিমটেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ পুন:গঠনের জন্য গত  ২২ মার্চ বিএসইসি যে আদেশ জারি করেছে তা কেন অবৈধ হবে না সে বিষয়ে আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। এছাড়া পুন:গঠিত পর্ষদ আগামী ৬ মাসের জন্য স্থগিত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ আইন, ১৯৬৯ এর ধারা ২০এ’ অনুযায়ী সিমটেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজের বর্তমান স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আকরাম হোসেন এবং শাহ মো. আসাদ উল্লাহ, মনোনীত পরিচালক শরীফ শহিদুল ইসলামের পরিবর্তে ইস্যুকারী পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে কোম্পানির বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিমটেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজের নতুন পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন- পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব. ) শেখ মামুন খালেদ। অন্যরা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সুবোধ দেবনাথ, দ্যা জুরিস্ট ঢাকা বাংলাদেশের পাটনার কাওসার আহমেদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাইয়ুম, ব্যবসায়ী আবিদ আল হাসান ও শেখ মামুন খালেদ। এই ৫ জন স্বতন্ত্র পরিচালকের মধ্য থেকে শেখ মামুন খালেদকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির এই আদেশের প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়ে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও স্বাধীন পরিচালক মো: সারওয়ার হোসেন এবং স্বাধীন পরিচালক শাহ মো. আসাদ উল্লাহ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। যার প্র্রেক্ষিতে আদালত তাদের পক্ষে এ আদেশ দেন।

সিমটেক্সের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ সুত্রে জানা গেছে, সিমটেক্সের পদচ্যুত চেয়ারম্যান আনিস অত্যন্ত সুকৌশলে ছল-চাকুরী করে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবসায়ি সিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে ২% শেয়ার হাতিয়ে কোম্পানীটির মাথায় চড়ে বসেন। অথচ শীর্ষ পদে বসার আগে ২০১৭ সাল থেকে তিনি এই কোম্পানীতে বেতনভুক্ত একজন কর্মকর্তা হিসেবে কাছ করে আসছিলেন।

কোম্পানীটির শীর্ষ পদে বসেই তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য পদে পদে কোম্পানীর ক্ষতি করতে থাকেন। তিনি একক সিদ্ধান্তে কোম্পানীর ২টি গাড়ীসহ কোম্পানীর ও ব্যবসায়ি সিদ্দিকুর রহমানের একাধিক সম্পদ বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সর্বোপরি কোম্পানীর জন্য আইনী খরচের কথা বলে নিজে ভাউচার দিয়ে কোম্পানীর তহবিল থেকে আরও কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেছেন। তিনি ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমনের ব্যয়ও তিনি কোম্পানী থেকে পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে। যা একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী থেকে বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া তিনি এককভাবে কখনই করতে পারেন না।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও বাংলাদেশের কোম্পানী আইনে নিবন্ধিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই পরিচালিত হয় সরকার কতৃক নির্ধারিত বিধি বিধান দ্বারা। কিন্ত দেখা গেছে পদচ্যুত চেয়ারম্যান আনিস সিমটেক্স পরিচালনার ক্ষেত্রে এর কোন কিছুরই তোয়াক্কা করেননি। তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিমাসে সন্মানী বাবদ পাঁচ লক্ষ টাকা করে রসিদের মাধ্যমে গ্রহন করেছেন। যেখানে জয়েন্ট স্টক অব কোম্পানীজ কতৃক প্রনীত বিধান অনুযায়ি এই কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রতিমাসে মাত্র ৫০ হাজার টাকা সন্মানী গ্রহন করতে পারেন। সেখানে লেঃ কর্নেল আনিস তার দশগুণ বেশী টাকা রশীদের মাধ্যমে গ্রহন করেছেন। যেটা সম্পূর্ন বিধি বহির্ভূত।

এসকল অনিয়ম  থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করে সিমটেক্সকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে এনে কারখানা অভ্যন্তরে কর্মীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে গত বছরের অর্থাৎ ১৭ আগষ্ট ২০২২ কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতভাবে আনিসকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারন করে নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে  তিনি পুঁজি বাজা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশনের কাছে নানা তথ্য দিয়ে সিমটেক্সকে হয়রানী করে চলেছেন। এছাড়াও তিনি স্বনামে-বেনামে ও বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আদালতসহ বেশ কয়েকটি জেলায় সিমটেক্সের বর্তমান চেয়ারম্যান ও এমডিসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নামে ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে ফৌজদরি মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন।

সর্বশেষ তিনি পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশনকে চরমভাব ভুল বুঝিয়ে সম্পূর্ন বিধি বহির্ভূতভাবে কোম্পানীটিতে চেয়ারম্যানসহ নতুন ৫জন বহিরাগতকে পরিচালক পদে নিযুক্ত করে পিছনে থেকে সিমটেক্সকে পুনরায় অধিগ্রহনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তার এই অপচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত । সিমটেক্সের বর্তমান চেয়ারম্যানের করা মামলায় গত ২ এপ্রিল হাইকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতি মাহামুদুল হক ও বিচারপতি মাহামুদ হাসান তালুকদার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশনের দেয়া ৫ জনের পরিচালনা পর্ষদকে স্থগিত করেছে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মু.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments