শনিবার, ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিস্বর্ণের দাম দুই বছরের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে
spot_img
spot_img

স্বর্ণের দাম দুই বছরের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বিশ্ববাজারে আগামী দুই বছরের মধ্যে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিনিয়োগকারী ও স্বর্ণশিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা বৃদ্ধি, সরকারি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন ডলারের আধিপত্য নিয়ে সংশয়—মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদা বাড়াচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তবে সম্প্রতি স্বর্ণের দামে পতন দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশার মধ্যে বুধবার স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৭৫ ডলারে নেমে আসে।

তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সঙ্গে কথা বলা তহবিল ব্যবস্থাপকরা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এতে স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পরিমাণ ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ মাসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রাথমিক হিসাবে, ওই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রায় ৬৩ টন স্বর্ণ কিনেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে প্রতি ট্রয় আউন্স ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে দাম কমলেও ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম।

কেন স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড গড়তে পারে

ট্রয় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের তহবিল ব্যবস্থাপক শার্লট ইয়ং বুধবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের আয়োজিত মূল্যবান ধাতুবিষয়ক এক সম্মেলনে বলেন, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

ইয়ং মনে করেন, সরকারের আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ঋণের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বর্ণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অর্থের সরবরাহ বাড়াতে পারে। এতে বিভিন্ন মুদ্রার ওপর মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রচলিত মুদ্রার মতো স্বর্ণের সরবরাহ ইচ্ছামতো বাড়ানো যায় না। ফলে সম্পদের মূল্য ধরে রাখতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

এওন ইনভেস্টমেন্টসের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা পল কার্নও আগামী দুই বছরের মধ্যে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছেন।

কার্নের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং ভূরাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ডলারের ব্যবহার বিভিন্ন দেশকে মার্কিন মুদ্রার বিকল্প খুঁজতে উৎসাহিত করতে পারে। সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইলে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে পারে।

স্বর্ণের দিকে মানুষের আকর্ষণ কেন বাড়ছে

সম্ভাব্য আর্থিক সংকট নিয়ে উদ্বেগও স্বর্ণে বিনিয়োগের পক্ষে যুক্তি জোরালো করছে। স্বর্ণ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যালাইড গোল্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী পিটার মারোনে সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, বৈশ্বিক বাজার বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে কি না, তা বিনিয়োগকারীদের বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় বিভিন্ন পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বা ফ্যামিলি অফিস স্বর্ণের দিকে বেশি ঝুঁকছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ কমিয়ে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

স্বর্ণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এন্ডেভার মাইনিংয়ের প্রধান নির্বাহী ইয়ান ককারিলও প্রচলিত মুদ্রার মূল্য নিয়ে উদ্বেগ, সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা এবং মজুত সম্পদের মূল্য ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর প্রচেষ্টাকে স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ককারিলের ধারণা, স্বর্ণের পরবর্তী সম্ভাব্য উত্থানের আগে প্রতি ট্রয় আউন্সের দাম ৪ হাজার ডলারের কাছাকাছি পর্যায়ে নেমে স্থিতিশীল হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ দামকে নিশ্চিত সর্বনিম্ন সীমা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনায় বাড়ছে আশা

স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে।

চীনও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্বর্ণের মজুত বাড়ানো অব্যাহত রেখেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের উদ্ধৃত ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নার স্বর্ণের মজুত প্রায় ২ হাজার ৪১০ টন। দেশটির মোট রিজার্ভের প্রায় ৯ শতাংশই এখন স্বর্ণ।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments