বুধবার, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকহরমুজে উত্তেজনায় ৬ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ তেলের দাম
spot_img
spot_img

হরমুজে উত্তেজনায় ৬ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ তেলের দাম

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বিশ্ববাজারে মঙ্গলবার তেলের দাম বেড়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। এশিয়ার বাজারে সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ০৬ ডলারে ওঠে। আগের দিনও দাম বেড়েছিল ২ ডলারের বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। এর জেরে চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই দিনে তেলের দাম বেড়েছে। ফলে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। পরবর্তীকালে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। ১৭ জুন ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে উভয়পক্ষ সাময়িকভাবে সম্মত হলেও শেষ পর্যন্ত সেই মেয়াদ আর বাড়ছে না।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর ইরান জানায়, তারা ‘পূর্ণ আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে চলে যাবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি হয়নি। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগই এখন তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত শনিবার সেখানে মাত্র পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। গত রোববার কোনো ট্যাংকারই সেখানে যায়নি। এর আগের রোববার ৩১টি ট্যাংকার চলাচল করেছিল।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর সঙ্গে লোহিত সাগরে হুতিদের হামলার ঘটনায় নতুন করে সরবরাহঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেড়ে ৪ দশমিক ৭২৮ শতাংশে উঠেছে। ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহারও প্রায় দুই দশকের সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৩১৫ শতাংশে উঠেছে। তেলের উচ্চ দামের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকায় নীতি সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে দুর্বলতার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসে দেশটিতে খুচরা বিক্রি কমেছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারের প্রকাশিত পরিসংখ্যানও প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হয়েছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে—বাজারে এমন প্রত্যাশা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘ হলে তেলের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির হার আবার বাড়তে পারে। তখন সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

বৈশ্বিক তেলবাজারের দৃষ্টি এখন মূলত হরমুজ প্রণালি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগের দিকে। যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল না হলে সরবরাহঝুঁকি আবার বাড়তে পারে। এ কারণে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার। সেই দাম ৩০ এপ্রিল বেড়ে ১২৬ ডলারে ওঠে। পরে ২৬ জুন তেলের দাম আবার ৭২ ডলারে নেমে আসে। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments