ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: করোনা পরিস্থিতির দুর্যোগকালীন সময়ে ১ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা চেয়ে মানব বন্ধন করেছে ঢাকা মহানগর কিন্ডারগার্টেন স্কুল, ছায়া শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ।

গতকাল ৬ জুন শনিবার, সকাল:১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব, এর সামনে এবং দুপুর১২:৩০টায় পুরাতন ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্কের সামনে মানব বন্ধন করেছে সংগঠনটি।
জানা যায়, সংগঠনের আহবায়ক, পুরাতন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চাইল্ড হেভেন আইডিয়াল হাই স্কুল ও শাপলা কচি-কাঁচার মেলা লক্ষ্মীবাজার এর প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মোঃ আহসান সিদ্দিকী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার সমীপে নিম্নলিখিত দাবিসমূহ তুলে ধরেন-
নিচে দাবিগুলো হচ্ছে,
১। টিকে থাকার জন্য প্রত্যেক কে.জি. স্কুল, ছায়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের ১ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা/প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।
২। বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেক শিক্ষক কর্মচারীকে একটি করে রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করা।
৩। দূর্যোগকালীন সময় সকল শিক্ষক কর্মচারীদের ৭,০০০টাকা করে সম্মানি ভাতা প্রদান করা।
আহসান সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সকল কে.জি স্কুল, ছায়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে ভাড়া-বাড়িতে পরিচালিত হয়ে আসছে। সারা বাংলাদেশে এরকম প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আছে। এতে প্রায় ১২ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারী কর্মরত আছে।আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণভাবে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত টিউশান ফি দ্বারা পরিচালিত হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে আপনার নির্দেশে গত ১৬ই মার্চ দেশের সকল কে.জি স্কুল, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ছায়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে কোন প্রতিষ্ঠান এক টাকাও টিউশন ফি পায়নি, যার কারনে প্রতিষ্ঠানের বাড়িভাড়া ও শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনও দেওয়া যাচ্ছে না। এই
অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ৩/৪ মাসের মধ্যে দেশের ৮০% প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষক ও কর্মচারী বেকার হয়ে যাবে। পৃথিবীতে আপনার মত যোগ্য, দক্ষ, অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ এবং মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী থাকতে
যদি ৮০% প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এটি হবে বাংলাদেশের জন্য একটি অন্যরকম অধ্যায়। শিক্ষকরা জাতির বিবেক, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রায় এক কোটি শিশু শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষা, ২কোটি শিক্ষার্থীকে সহশিক্ষা এবং প্রায়১ কোটি শিক্ষার্থীকে সাংস্কৃতিক শিক্ষা দেশসেবা করে আসছে। করোনার প্রভাবে এই সেক্টরের সাথে জড়িত সকল শিক্ষক কর্মচারী আজ অসহায় ও মানবেতর দিনাতিপাত করছে। আমাদের সমস্ত আয় রোজগারের পথ আজ বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা কোথাও ত্রাণের জন্য হাত পাততে পারছিনা, ধার চাইলেও এই পরিস্থিতিতে কেউ আমাদের
ধার দিচ্ছে না। আপনি আমাদের প্রতি সুনজর না দিলে আমরা নাখেয়ে ধুকে ধুকে মারা যাব। এই মহামারীতে আমাদের আয় রোজগার না থাকলেও সংসার খরচ ও বাড়িভাড়া থেমে নেই। বাড়িওয়ালারা ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মমতাময়ী মা, আমাদের এই বিপুলসংখ্যক অসহায় পরিচালক,শিক্ষক ও কর্মচারীদের দিকে একটু নজর দেওয়ার জন্য আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ জানায়।
আদি ঢাকা সাংস্কৃতিক জোট এর সাধারণ সম্পাদক হানিফ খানের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সচিব ফ্রিল্যান্সার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এর সাধারন সম্পাদক মাহবুব আরেফিন, সংগঠনের সদস্য, নিয়াজ আহমেদ, মানস বোস বাবু রাম, হানিফ খান, কাজী আব্দুর রাজ্জাক স্বপন আহমেদ, হামিদুর রহমান
পা্প্পু, বদিউজ্জামান বদি বিপ্লব সরকার পলাশ, নূরে আলম হিমেল, নূর জাহান শিলা, রাজেস ঘোষ, মোঃ মাহতাব উদ্দিন, উদয় শংকর বসাক, হৃদয় সাহা, জয় মাহমুদ, আসমা সিদ্দিকী, সাদিয়া ইসলাম শান্তা, অন্যান্য শিক্ষক ও পরিচালকবৃন্দ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি:


























Recent Comments