ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ১ হাজার ৪৭৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। গত কাল ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার নৌবাহিনীর উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় ঘাঁটি লুমুত নাভাল বেইস থেকে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর ৩ টি জাহাজে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর নাম ইউএমএস মাউত্তামা, ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন এবং ইউএনএস থানলউইন।
মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ১ হাজার ৪৭৬ জন রোহিঙ্গার এই দলটিতে ১ হাজার ৩৭০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন কিশোর, ৭ জন মেয়েশিশু রয়েছে। এই মেয়েশিশুদের বয়স ৬ থেকে ৮ বছরের মধ্যে।
এক প্রতিবেদনে গণমাধ্যম জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের ১৪টি শরণার্থী শিবির থেকে এই রোহিঙ্গাদের বাছাই করা হয়েছে। গত কাল তাদের মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করতে লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে আনা হয়েছিল। কড়া পুলিশ প্রহরায় কয়েক ডজন বাসে স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা হয়েছিল তাদের। কোনো সাংবাদিককে এ সময় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে কয়েকটি পুলিশ স্টেশন এবং সেনা ছাউনিতে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। পরে সেই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা। আরসার দায় স্বীকারের পর রাখাইনের রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।
সেনাসদস্যদের হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের সামনে টিকতে না পেরে বাড়িঘর ছেড়ে দলে দলে রোহিঙ্গারা দেশান্তরি হতে শুরু করে। এই রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় দলটি এসেছে বাংলাদেশে— ২০১৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এসেছে বাংলাদেশে।
মালয়েশিয়াতেও আশ্রয় নিয়েছিল রোহিঙ্গারা। কুয়ালালামপুরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন।
গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছিলেন, মিয়ানমারের সরকার ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিন জানিয়েছেন, যে ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর কথা হয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে, তার প্রথম দলটিকে পাঠানো হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর।
“এই রোহিঙ্গাদের সবাই স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। কোনো প্রকার চাপপ্রয়োগ বা জোর-জবরদস্তি করা হয়নি। মিয়ানমারের সরকারও তাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে”, গণমাধ্যমকে বলেছেন মাখজান।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই কার্যক্রমে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। সেই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে সেখানে শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মতো পরিস্থিতি এখনও বিদ্যমান নেই।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা গণমাধ্যমকে ইউএনএইচসিআরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, “শরণার্থীদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন অবশ্যই স্বেচ্ছায় ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে হতে হবে এবং তা হতে হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে।”
এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত আসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে রাখাইন নিবাসী রোহিঙ্গাদের সংস্থা আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিলও (এআরএনসি)। সংস্থাটির কো চেয়ারম্যান নায়ে সান লোউইন গণমাধ্যমকে বলেছেন, “রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকা এখন আর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেই। রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে এখনও যুদ্ধ চলছে সেনাবাহিনী। এই অবস্থায় এই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর মানে হলো সংঘাত পরিস্থিতির দিকে তাদের ঠেলে দেওয়া।”
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments