ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৮৫ দিনে, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৮ দশমিক ০২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৯৮ হাজার ৯০৩ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ২৯ পয়সা হিসাবে এ হিসাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭ দশমিক ০৬৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২ দশমিক ১৯৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২ দশমিক ১৬৪ বিলিয়ন ডলার। ফলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। শুধু ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে ৬২ মিলিয়ন ডলার বা ৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় ডলারের বিপরীতে টাকার ওপর চাপও কমেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে।
এ ছাড়া চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মূল্য আরও শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় ওঠে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে টাকার মূল্যমানের ওপর চাপ অব্যাহত ছিল।
তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং রিজার্ভ বাড়ার কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান শক্তিশালী হওয়ার ধারা তৈরি হয়েছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments