ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আইনী দুর্বলতার সুযোগে নেগেটিভ ক্যাশ ফ্লো নিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ইনডেক্স এগ্রো লিমিটেড। আর আইনের এমন দুর্বলতার কারণে কার্যকরী ব্যবস্থাও নিতে পারছে না বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যার ফলে এ কোম্পানিতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া স্বত্ত্বেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ৩০ জুন, ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ২.৯৯ টাকা (লোকসান)। অথচ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস ২০১৫ এর ৩(৪)(সি) ধারায় বলা হয়েছে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হতে হলে ইস্যুয়ারকে অবশ্যই সর্বশেষ ২ বছরের নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো পজেটিভ থাকতে হবে। কিন্তু ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজের গেল বছরেরই নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ব্যাপক নেগেটিভ হয়েছে। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধিতেতে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা এ কোম্পানির ক্যাশ ফ্লো নেগেটিভ থাকায় বিনিয়োগ নিয়ে অনাস্থা তৈরি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজের কোম্পানি সচিব আবু জাফর আলী ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে জানান, যখন আমরা ২০১৬ সালে আইপিও অনুমোদনের জন্য আবেদন জমা দেই তখন আমাদের ক্যাশ ফ্লো পজেটিভ ছিল। আর আইনে আইপিও আবেদনের সময়ে ক্যাশ ফ্লো নেগেটিভ থাকা যাবে না এমনটা বলা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে বা অনুমোদনের সময় ক্যাশ ফ্লো নেগেটিভ থাকা বা না থাকার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে জানান, পাবলিক ইস্যু আইনে আইপিও আবেদনের সময়ে ক্যাশ ফ্লো নেগেটিভ থাকা যাবে না এমনটা বলা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে আইপিও অনুমোদনের সময়ে নেগেটিভ থাকলে কি হবে সে বিষয়ে আইনে কোন ক্লিয়ারেন্স নেই। এখানে একটি দুর্বলতা রয়েছে। এখন সৃষ্ট এ জটিলতা অবসানের জন্য এক্সপার্টদের সঙ্গে বসতে হবে। তাদের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ.কে.এম মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে জানান, বাজারে যেন নেগেটিভ বা লোকসান নিয়ে কোন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে না পারে সেজন্যই পাবলিক ইস্যু রুলসে এমন বিধান করা হয়েছে। এখন আইনের মধ্যে ছোট্ট করে যদি লেখা থাকে আইপিও আবেদনের সময়ে নেগেটিভ ক্যাশ ফ্লো থাকা যাবে না, এর অর্থ এই নয় যে তালিকাভুক্তির অনুমোদনের সময় নেগেটিভ ক্যাশ ফ্লো থাকলেও চলবে। এটা আইনের ছোট্ট একটি ফাঁকফোকড় মাত্র যা কমিশন চাইলেই একটি নোটিফিকেশন জারি করে দিতে পারে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যাবে না। ইনডেক্স এগ্রো বুক বিল্ডিংয়ে তালিকাভুক্ত হবে কিন্তু এর শেয়ার দর কত হবে তার ভাগ্য নির্ধারক হবে ইলিজিবল ইনভেস্টররা। আর বর্তমান বেশিরভাগ ইলিজিবল ইনভেস্টররা যে টাকা খেয়ে বিডিং করে শেয়ার প্রাইস অতিমূল্যায়িত করে দেয় সেটা এখন ওপেন সিক্রেট। তাই বিনিয়োগকারী তথা পুঁজিবাজার উন্নয়নে অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৫০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে ইনডেক্স এগ্রো। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ কোম্পানির বিডিং শুরু হবে।আইপিও অর্থ দিয়ে ভবন নির্মাণ, নতুন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ক্রয় এবং আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় করা হবে। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড ও ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি


































Recent Comments