ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের সঞ্চয় ক্ষমতা কমেছে। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্রের সুদহার নিয়ে বিভ্রান্তি আছে অনেকের মধ্যে। আবার ট্রেজারি বিল-বন্ডে সুদহার অনেক বেড়েছে। ব্যাংকগুলোও এখন উচ্চ সুদ দিচ্ছে। সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে আগ্রহ কমছে। টানা তিন অর্থবছর সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমে গেছে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা কমেছে। এতে সরকারি এই উপাদানে বিনিয়োগ স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছর ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা কমে যায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কমে তিন হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। এর আগে বিভিন্ন অর্থবছরে বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতিবছরই সরকার অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। চলতি অর্থবছরের জন্য সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকায় নামানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সময় একই নামে অনেক টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ ছিল। তবে ২০১৯ সালে ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালুর পর সেই সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে। আবার ওই সময়ে এক লাখ টাকার বেশি অঙ্কের সঞ্চয়পত্র কেনায় টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়। পরে সুদহার নির্ধারণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। এই নিয়মে প্রতি ছয় মাস অন্তর সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে সর্বশেষ গত জুলাইতে সুদহার ৪৭ থেকে ৫৭ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। এ ছাড়া এখন সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি এবং কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন সুদহার দেওয়া হয়। এ রকম নানা জটিল নিয়মের কারণে অনেকেই এখন ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করছেন।
গত জুন শেষে ট্রেজারি বিল-বন্ডে ব্যক্তি, করপোরেট, প্রভিডেন্ট ও পেনশন ফান্ডের বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুন শেষে যা ছিল মাত্র ২৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। গত দুই বছরে বেড়ে প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে। ব্যক্তি বিনিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় খাত এখন বিল-বন্ড। সরকারি এই উপাদানে টাকা রেখে এখন ১২ শতাংশের মতো সুদ মিলছে। এখানে মুনাফার ওপর কোনো কর দিতে হয় না। যথাসময়ে ফেরতের নিশ্চয়তা কিংবা সেকেন্ডারি বাজারে বিক্রির সুযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে বড় অংশই এখন এদিকে ঝুঁকছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.


























Recent Comments