শনিবার, ২৪শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeএক্সক্লুসিভএকের পর এক সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করছে আমরা টেকনোলজিস, ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি...
spot_img

একের পর এক সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করছে আমরা টেকনোলজিস, ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি (পর্ব-১)

নিজস্ব প্রতিবেদক: লোকসানে জর্জরিত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইটি খাতের কোম্পানি আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড। কোম্পানিটির ব্যবসা এতোটাই খাদের কিনারে চলে গেছে যে, গত হিসাব বছরে (৩০ জুন ২০২৪) লোকসান করার পাশাপাশি সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসেও (জুলাই,২৪-মার্চ,২৫) আশঙ্কাজনক হারে লোকসান করেছে। ফলে গত বছরের মতো সদ্য বিদায়ী বছরেও লোকসানের কবলে পড়তে যাচ্ছে কোম্পানিটি, এমনটাই ধারণা করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারী ও খাত সংশ্লিষ্টরা। কোম্পানির এই অচলাবস্থা থেকে ফিরে আসা আগামী কয়েক বছরেও সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা। আর এই লোকসানের মাঝেই একের পর এক সিকিউরিটিজ আইন অমান্য করছে কোম্পানিটি। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক নির্দেশনা দিতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করায় ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) কোম্পানি আমরা টেকনোলজিসের শতভাগ ব্যান্ডউইথ ব্লক বা ক্যাপিং করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), যা সেসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২৪ সালের শুরু থেকে কোম্পানিটির ব্যান্ড উইথ শতভাগ বন্ধ থাকায় ইন্টারনেট ব্যবসায় ধ্বস নামে।

(আমরা টেকনোলজিসের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্ব।)

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসার বেহাল দশার কারণে গত হিসাব বছরে  কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য মাত্র এক শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড (নগদ লভ্যাংশ) ঘোষণা করে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই এক শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডও বিনিয়োগকারীদের মাঝে এখন পর্যন্ত বিতরণ করেনি আমরা টেকনোলজিস। ফলে সরাসরি সিকিউরিটিজ আইন অমান্য করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সাথে ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছে কোম্পানিটি।

এব্যাপারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানিটি এক সময় মুনাফায় ছিল। কিন্তু কোম্পানিটির মালিকপক্ষের পাশাপাশি কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা মুনাফার অর্থ আত্মসাৎ করেছে। যে-কারণে কোম্পানিটি বিটিআরসির পাওনা পরিশোধ করতে পারেনি। কোম্পানির মুনাফার বিশাল একটা অংশ তারা বিদেশে পাচার করে থাকতে পারে বলে ধারণা পোষণ করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

আরও জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সদ্য বিদায়ী বছরের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি আমরা টেকনোলজিস। ফলে এ সংক্রান্ত সিকিউরিটিজ আইন ও কমিশনের নির্দেশনাও অমান্য করেছে কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এনফোর্সমেন্ট বিভাগ কোম্পানিটির বিরুদ্ধে এব্যাপারে কঠিন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এবিষয়ে বিএসইসি জানিয়েছে, আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব পুঁজিবাজারে তথ্যপ্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকি বাড়ায় এবং বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি করে। এ ধরনের শৈথিল্য বাজারে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য হুমকি।

এদিকে এসব ব্যাপারে আমরা টেকনোলজিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আমরা নেটওয়ার্কসের কোম্পানি সচিব সৈয়দ মনিরুজ্জামান ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, আমাদের ব্যান্ড উইথ বন্ধ থাকায় আমরা টেকনোলজিসের ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। লোকসান করে যাচ্ছে কোম্পানিটি। ব্যান্ড উইথ খোলার ব্যাপারে কোনো দিক নির্দেশনা তিনি দিতে পারেননি। এছাড়াও আমরা টেকনোলজিস অল্প সময়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা সে-ব্যাপারেও কোনো সুর্নিদিষ্ট মতামত পোষণ করতে পারেননি তিনি।

মনিরুজ্জামান আরও বলেন, আমাদের ব্যবসা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। যে-কারণে গত বছরের ঘোষিত ডিভিডেন্ড এখনো দিতে পারিনি। ফলে সদ্য বিদায়ী বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সঠিক সময়ে প্রকাশ করতে পারিনি।

কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন দিয়েতো নিরীক্ষক (অডিটর) আপনাদের কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনাদের নিরীক্ষক কেন সেটি করছে না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের নিরীক্ষক এ সংক্রান্ত কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন দিয়ে আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করবে না।

এদিকে জানা গেছে, তিন বছর অতিবাহিত হলেও ২০২১ সালের অবণ্টিত লভ্যাংশ ৪ লাখ ২৭ হাজার ২৮৮ টাকা এখনো কেপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) জমা দেয়নি আমরা টেকনোলজিস।

সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, কোম্পানির কাছে থাকা তিন বছর বা তিন বছরের অধিক অবণ্টিত লভ্যাংশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) জমা দিতে হয়। এক্ষেত্রেও সিকিউরিটিজ আইন অমান্য করেছে প্রতিষ্টানটি।

নিজেদের কোম্পানি আমরা হোল্ডিংস লিমিটেড থেকে ৬০ কোটি টাকার ইন্টারনাল অডিট সার্ভিসসহ বিভিন্ন সার্ভিস নিয়েছে বলে গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে আমরা টেকনোলজিস। কিন্তু আদৌ এসব সার্ভিস নিয়েছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এব্যাপারে তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

আমরা হোল্ডিংসের কথা উল্লেখ করে এই অর্থ আমরা টেকনোলজিস আত্মসাৎ করে থাকতে পারে অভিযোগ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, গত হিসাব বছরে আমরা টেকনোলজিস লোকসান করেছে ৭৯ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে দশমিক ১২ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে দশমিক ৯৭ টাকা।

বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, আমরা টেকনোলজিসের যাবতীয় অন্যায় আমরা এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠিয়েছি। এনফোর্সমেন্ট বিভাগ কোম্পানিটির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা আমরা টেকনোলজিসের ৩ ফেব্রুয়ারি শেয়ার দর ছিল ১১ টাকা ৩০ পয়সা। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৬৪ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) মালিকানা রয়েছে ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments

error: Content is protected !!