দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেকহোল্ডার ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বর্তমানে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।
আজ (০২ মার্চ) দেশের পুঁজিবাজারের নানা বিষয় নিয়ে তিনি মতামত তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারটি যৌথভাবে নিয়েছেন এশিয়ান টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার এম এইচ রনি ও ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম: গত ১৭ বছরে পুঁজিবাজারের অবস্থা ভালো ছিলো না। নতুন সরকার আসার পর মার্কেট ভাইব্রেন্ট হতে শুরু করেছে। আগামীতে মার্কেট কেমন যাবে বলে আপনি মনে করেন।
সাইফুল ইসলাম: গত ১৭ বছরে ব্যাংকিং সেক্টর যে পরিমাণ লুট হয়েছে। তারচেয়ে বেশি পরিমাণে পুঁজিবাজার লুট হয়েছে। কিন্তু গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের শাসনামলে আলাপ আলোচনায় কখনো কেপিটাল মার্কেট বা পুঁজিবাজার তেমন গুরুত্ব পায়নি। শুধু ব্যাংকিং সেক্টরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, মিনিস্ট্রি অব ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ সরকার গত দেড় বছর ধরে ব্যাংকিং সেক্টরকে ভালো করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছে। সরকারের তরফ থেকে ফান্ডিং করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই ব্যাংকগুলো ধসে না পড়ে এবং এটাই স্বাভাবিক। সারা পৃথিবীতেও তাই করা হয়। আবার বিদেশে কেপিটাল মার্কেট খারাপ অবস্থায় গেলে সেখানেও সেসব দেশের সরকার এগিয়ে আসে, সহযোগিতা করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
তিনি বলেন, আমরা কেপিটাল মার্কেটের উন্নয়নে টাকা চাচ্ছি না। পলিসি সাপোর্ট চাচ্ছি। ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী থেকে এখন তা ১৫ থেকে ১৬ লাখে নেমে এসেছে। পৃথিবীর কোনো দেশের কেপিটাল মার্কেট থেকে এভাবে বিনিয়োগকারীরা চলে যায় কিনা আমার জানা নেই। আমাদের বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ৩৩ লাখ থেকে ৬৬ লাখ হওয়া উচিত ছিল।
পুঁজিবাজার থেকে তাদের চলে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে তারা পুঁজি সম্পূর্ণ হারিয়েছে। অথবা লোন বা ঋণে পড়েছে। ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের মার্কেট ভ্যালু ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে। যারা এই মার্কেটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদেরকে ফাইন্যান্সিয়াল সার্পোট দিতে বলছি না। তাদেরকে পলিসি সার্পোট দেওয়া উচিত। সরকারের যে শেয়ারগুলো আছে সেগুলো বাজারে নিয়ে আসতে হবে। বিনিয়োগকারীরা এই শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ করে সহজেই লাভবান হতে পারবে। বর্তমানে বাজারে যে-সমস্ত শেয়ার রয়েছে সেখান থেকে হারিয়ে যাওয়া অর্থ রিকভার করা ভেরি টাফ। নতুন শেয়ার একটা রিজেনেবল প্রাইজে দিতে হবে টু দ্যা ইনভেস্টরস, যেখানে বিনিযোগ ধরে রেখে বিনিয়োগকারীরা হারানো অর্থ রিকভার করতে পারবে। এই ধরনের পলিসি সাপোর্টগুলো আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে চেয়ে আসছি। কিন্তু আমরা পাইনি, জানান সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গত ১৫ মাস ধরে মার্কেটের উন্নয়নে আমরা অনেকগুলি সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করেছি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে আমাদেরকে বলেছিল তারা ক্ষমতায় আসলে মার্কেটের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপি তাদের কমিটমেন্ট (ওয়াদা) বজায় রাখবে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যে তাদের কমিটমেন্ট রাখতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তার পজেটিভ রেজাল্ট আমরা গত এক মাস ধরে কেপিটাল মার্কেটে দেখতে পাচ্ছি। ভলিউম এবং ইনডেক্সে ভালো মোমেন্টাম দেখতে পাচ্ছি, এটা ধরে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের রিফর্ম প্রসেসটাকে চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে যে শেয়ারগুলো রয়েছে সেগুলো অফলোড করা উচিত। এছাড়াও পাবলিক সেক্টরে যে কোম্পানিগুলো এখনো বাজারে আসেনি, যেগুলো বেশ ভালো করছে, সেসব কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। যে পরিমাণ ইনসেনটিভ দিলে ওনারা বাজারে আসবে, সেটি এনশিওর করা করতে হবে। এজন্য ওইসব কোম্পানির সাথে ধারাবাহিকভাবে কথা বলতে হবে। কোম্পানিগুলো বাজারে আসলে বাজার ভাইব্রেন্ট হবে এবং সরকার উপকৃত হবে। কারণ একটা নন লিস্টেড কোম্পানির চেয়ে লিস্টেড কোম্পানি থেকে অনেক বেশি পরিমাণ সরকার ট্যাক্স পেয়ে থাকে। এই ধরনের পলিসি সাপোর্টগুলো আমরা চাচ্ছি। বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে হবে। এখন আমাদের অর্থনীতির যে অবস্থা সেখানে বিদেশি বিনিযোগের ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি। খুঁজে বের করতে হবে কেন আমাদের পুঁজিবাজারে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট বা বিদেশি বিনিয়োগ এক থেকে ২ শতাংশে রয়েছে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ ১০ শতাংশে নিয়ে আসা উচিত। বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে। আমাদের পুঁজিবাজারে অনেক ইন্সটিটিউশনাল উইকনেস রয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জগুলিও নন ফাংশনাল। স্টক এক্সচেঞ্জকে এমপাওয়ার (শক্তিশালী) করতে হবে। সিডিবিএলকে আরও ভাইব্রেন্ট ও ফাংশনাল করা উচিত। সিসিবিএল এর কাজ ইমিডিয়েট শুরু করা উচিত। স্টক এক্সচেঞ্জকে অপারেশনাল লেভেলে রাখতে হবে। জাপানের মতো সেলফ রেগুলেটরি অর্গানইজেশন (এসআরও) তৈরি করতে হবে বাই অল দ্যা মার্কেট ইইন্টারমেডিওরিজ। অবশ্যই তার রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন করে দেবে সরকার এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আমাদের পুঁজিবাজার কেন পিছিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশের চেয়ে। সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। রিসার্চ করতে হবে। এগুলো একদিনে করা যাবে না। বিশ্লেষণ করতে হবে। বর্তমান সরকারের সাথে আমাদের যোগাযোগটা এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় রয়েছে। বিএনপি তাদের শাসনামলে (১৯৯১-১৯৯৬ ও ২০০১-২০০৬) মার্কেটকে অনেক সহযোগিতা করেছে। ওই সময় মার্কেটের রিজেনেবল গ্রোথ ছিল, ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ছিল, সিডিবিএল, বিএসইসি তখন এসেছে। ওই ধারাবাহিকতা আমরা আবার দেখতে চাই।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম: সম্প্রতি আপনাদের কিছু প্রোগ্রাম বেশ প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে আপনাদের আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সামিট। এই কাজগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর করা উচিত। কিন্তু তারা এধরনের প্রোগ্রাম আয়োজনে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। কেন তারা আগ্রহ দেখাচ্ছে না এবং সামনের দিনগুলোতে কি আপনারা আরও এধরনের প্রোগ্রামের আয়োজন করবেন?
সাইফুল ইসলাম: আমরা এই ধরনের প্রোগ্রামগুলি কন্টিনিউ করবো। এগুলো শুধু কমিশন বা স্টক এক্সচেঞ্জের কাজ না। এই ধরনের প্রোগ্রাম করার ব্যাপারে মার্চেন্ট ব্যাংক, স্টক ব্রোকারসহ মার্কেট সংশ্লিষ্ট সকলকে রেসপন্সেবিলিটি নিতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির কাছে আমাদের বিষয়গুলো তুলে ধরা উচিত।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছর রোড শোর নামে কি পরিমাণ অরাজকতা হয়েছে আমরা সকলেই জানি। যে-কারণে আমাদের রেগুলেটরি বডি ও স্টক এক্সচেঞ্জ আনকমফোর্টেবল অবস্থায় রয়েছে। আমেরিকা, লন্ডন বা হংকংয়ে বসে বাংলাদেশের অবস্থা বোঝা বেশ কঠিন। সে-কারণে ফরেন ইনভেস্টরদের বাংলাদেশে এনে বোঝাতে হবে যে আমাদের অনেক পটেনশিয়ালিটি রয়েছে। আমাদের অর্থনীতি অনেক ভাইব্রেন্ট। এজন্য প্রয়োজন বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের আয়োজন করা। স্টক এক্সচেঞ্জ বা কমিশন আমাদের সাথে আসুক বা না আসুক আমরা বর্তমান সরকারকে সামনে রেখে এই প্রোগ্রামগুলো করে যাবো।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম: বিএসইসির চেয়ারম্যান বা কমিশনারদের কেন ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হতে হবে? শিক্ষকদের বাহিরে মার্কেট রিলেটেড ব্যক্তিদেরকে কি বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায়? এব্যাপারে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।
সাইফুল ইসলাম: আমরা ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষকসহ সকল শিক্ষককে রেসপেক্ট করি। কেপিটাল মার্কেট ইজ এ ভেরি সেন্সিটিভ কেস এবং এটাকে ফাংশনাল করা সরকারের দায়িত্ব। এটা পুঁজি যোগান দেওয়ার জায়গা। এখানে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব দিতে হবে। আমাদের পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যাদের এই বাজার পরিচালনায় বিন্দু মাত্র জ্ঞান নেই অতিতে তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্যক জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিকে পুঁজিবাজার পরিচালনায় দায়িত্ব দেওয়া উচিত। মার্কেটকে যারা সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারবে সেই ধরনের লোক আমরা চাচ্ছি। আমাদের পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। আমাদেরকে সামনের দিকে এগোতে হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম: গত দের বছরে নতুন কোনো আইপিও বাজারে আসেনি। এর নেতিবাচক প্রভাব কি বাজারে পড়েছে। আর আইপিও আনার ব্যাপারে আপনাদের মতামত জানতে চাচ্ছি।
সাইফুল ইসলাম: গত প্রায় তিন বছর ধরে নতুন কোনো আইপিও বাজারে আসেনি। সর্বশেষ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি গ্রামীণফোন তালিকাভুক্ত হয়েছে। তারপর আর কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। বিদেশিরা আমাদেরকে প্রশ্ন করে নতুন আইপিও নেই কোনো। তারা বাজারে বিনিয়োগ করতে চায়। নতুন আইপিও না আসলে মার্কেট ভাইব্রেন্ট হবে না। ভালো মানের কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসতে হবে। মার্কেটকে ভালো করতে হলে নতুন আইপিও’র বিকল্প নেই।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম: এই বাজারে এমন কি কোনো আইন রয়েছে যা পরিবর্তন করা উচিত বলে আপনি মনে করেন।
সাইফুল ইসলাম: আমাদের তিনটি মেজর রিফর্ম হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে আইপিও, মার্জিন ব্র্যান্ডিং ও মিউচুয়াল ফান্ড। তিনটা আইন পরিবর্তন হওয়ার পরেও আমরা তিনটি সেক্টরের কোনোটাতেই নতুন কিছু দেখতে পারিনি। আমাদের কিছুদিন ওয়েট করতে হবে। যদি আমরা দেখি যে পরিবর্তিত আইনগুলো কোনো কাজ করছে না, তবে আমাদেরকে আবার রিভাইস করতে হবে। কোনো আইনেই পারপেচুয়ালি প্রমাণিত নয়। এগুলো কন্টিনিউ বেসিস রিভিউ করতে হয়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম: বর্তমানে মার্কেট পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। কবে নাগাদ মার্কেট পুরোপুরি স্থিতিশীল বা স্ট্যাবল হবে বলে আপনি মনে করেন?
সাইফুল ইসলাম: মার্কেট সব সময় আপস অ্যান্ড ডাউনের মধ্যে থাকবে। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আমি মনে করি আমরা বাজারে রিটার্ন এনশিওর করতে পারছি কিনা। গত ১৫ বছরে আমরা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের রিটার্ন এনশিওর করতে পারিনি। এই রিটার্ন এনশিওর না করা পর্যন্ত মার্কেটের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে না। তাই মার্কেট স্ট্যাবল করতে হলে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের রিটার্ন এনশিওর করতে হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম: বর্তমানে বিএসইসির দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা কি বাজার যেভাবে পরিচালনা করা উচিত সেভাবে করতে পারছেন?
সাইফুল ইসলাম: নির্দিষ্ট একটা প্রতিষ্ঠান বা একজন ব্যক্তি মার্কেটের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে না। মার্কেটের সব ইন্টারমেডিয়রিজ, স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসিসহ মার্কেট সংশ্লিষ্ট সকলকে মার্কেটের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম: পুঁজিবাজারে এক সময় ৩৩ লাখ বিনিযোগকারী ছিল। বর্তমানে তা ১৫ থেকে ১৬ লাখে নেমে এসেছে। আস্থার সংকটের কারণে ৫০ শতাংশ বিনিয়োগকারী মার্কেট থেকে চলে গেছে বলে আমরা সকলেই জানি। তাদের ফিরিয়ে আনতে কি ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
সাইফুল ইসলাম: পুঁজিবাজারের গভর্নেস ঠিক করতে হবে। যে-সমস্ত কোম্পানি বাজারে আসবে সেগুলোর ইনটেনশন যেন খারাপ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কোম্পানিগুলোতে ট্রান্সপারেন্সি থাকতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল একাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করতে হবে কোম্পানিগুলোকে। ফেব্রিকেটেড কোনো নিউজ দেওয়া যাবে না। সবার কাছে যথেষ্ট পরিমাণ ইনফরমেশন ডিজামিনেট করতে হবে। মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে ডেভেলপ করতে হবে। অর্থাৎ এই বাজারকে নেক্সট স্টেপে নিতে হলে মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে নিতে হবে এবং কনটিনিউ বেসিসে আমাদেরকে কোয়ালিটি সম্পন্ন আইপিও আনতে হবে। আগামী তিন থেকে চার বছর যদি আমরা এই কাজগুলো করতে পারি তবে মার্কেট অনেক বেশি ভাইব্রেন্ট হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম: বিএসইসি বরাবরই বলে আসছে বাজার উঠা-নামায় তাদের কোনো কাজ নেই। বিনিয়োগকারীদেরকে প্রতিষ্ঠানটি দায়সারা উত্তর দিয়ে থাকে। তাহলে বিএসইসির আসলে দায়িত্বটা কি? এ ব্যাপারে যদি কিছু বলতেন।
সাইফুল ইসলাম: আমরা একটা জবাবদিহিমূলক সরকার পেয়েছি। অনেক দিন পর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পেয়েছি। তারা ক্ষমতায় এসে গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশ চালাতে চাচ্ছেন। নতুন সরকার বিরোধী দলের সাথে আন্তরিকভাবে বসেছে। নতুন একটা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এটা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি তাহলে আগামীতে আমরা সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা, একাউন্টেবিলিটি দেখতে পারবো। কেউ ইচ্ছা করলেও দায়সারা উত্তর দিতে পারবে না।
























Recent Comments