বৃহস্পতিবার, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeকোম্পানি সংবাদএনআরবিসি ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
spot_img
spot_img

এনআরবিসি ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠান এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ (Emphasis of Matter) করেছেন নিরীক্ষকরা। যদিও নিরীক্ষকরা তাদের মতামতে কোনো শর্ত আরোপ করেননি, তবুও ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদন ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা প্রতিপালন সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

ব্যাংকটির নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন মাহমুদ সবুজ অ্যান্ড কোং-এর ব্যবস্থাপনা অংশীদার মো. মাহমুদ হোসাইন এফসিএ এবং সাইফুল শামসুল আলম অ্যান্ড কোং-এর অংশীদার মো. এমরান হোসেন এফসিএ। তাদের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চারটি বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

১,০০৬ কোটি টাকার প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়নি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিআরপিডি সার্কুলার অনুযায়ী ঋণ ও অগ্রিমের বিপরীতে ব্যাংকটির ১ হাজার ৬ কোটি ১১ লাখ টাকার প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করার কথা ছিল। তবে ব্যাংকটি ওই প্রভিশন আর্থিক হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএসডি-৬/উইং-৪/এনআরবিসি/২০২৬-৩৩১ নম্বর চিঠির মাধ্যমে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এই প্রভিশন স্বীকৃতি স্থগিত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আইএফআরএস-১৬ অনুসরণে বিচ্যুতি

নিরীক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, ব্যাংকটি আর্থিক বিবরণীতে আইএফআরএস-১৬ (লিজ) অনুসরণের দাবি করলেও বাস্তবে লিজ হিসাবায়নে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ব্যাংকটি ১৭টি শাখার ক্ষেত্রে লিজ হিসাবায়ন প্রয়োগ করেছে, তবে রাইট-অব-ইউজ (ROU) সম্পদ এবং লিজ দায় নির্ধারণে আইএফআরএস-১৬ এর অনুচ্ছেদ ২৪ ও ২৬-এর নির্দেশনা মানা হয়নি।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি ৩০ দশমিক ৩৯ কোটি টাকার ROU সম্পদ এবং ৩০ দশমিক ১৭ কোটি টাকার লিজ দায় দেখিয়েছে। তবে নিরীক্ষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রকৃত পরিমাণ হওয়া উচিত ছিল যথাক্রমে ১২ দশমিক ৪৮ কোটি ও ১৩ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা। এছাড়া বাকি শাখাগুলোতে আইএফআরএস-১৬ প্রয়োগ না করায় ROU সম্পদ ৭৪ দশমিক ৯ কোটি টাকা এবং লিজ দায় ৭৮ দশমিক ১৭ কোটি টাকা কম দেখানো হয়েছে বলে নিরীক্ষায় উঠে এসেছে।

কর্মচারী গ্র্যাচুইটি হিসাবায়নে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ হয়নি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এনআরবিসি ব্যাংক একটি ডিফাইন্ড বেনিফিট গ্র্যাচুইটি স্কিম পরিচালনা করে। তবে আন্তর্জাতিক হিসাব মান (IAS-19 Employee Benefits) অনুযায়ী বাধ্যতামূলক অ্যাকচুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন সম্পন্ন করা হয়নি। পরিবর্তে ব্যাংকটি চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে প্রভিশন গণনা করেছে, যা আইএএস-১৯ এর স্বীকৃতি ও পরিমাপ সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করে না।

ফলে কর্মচারী সুবিধা সংক্রান্ত দায়ের বিপরীতে স্বীকৃত প্রভিশন আর্থিক বিবরণীতে যথাযথ ও নির্ভুলভাবে উপস্থাপিত নাও হতে পারে বলে নিরীক্ষকরা মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নোটে প্রদত্ত তথ্যও আইএএস-১৯ এর প্রকাশসংক্রান্ত শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূলধন পর্যাপ্ততায় ঘাটতি

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৪ সালের ১৮ নম্বর বিআরপিডি সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর একক ও সমন্বিত ভিত্তিতে ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ মোট মূলধন ও ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফার (CCB) বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

কিন্তু ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এনআরবিসি ব্যাংকের মোট মূলধন ও সিসিবি অনুপাত একক ভিত্তিতে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং সমন্বিত ভিত্তিতে ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ ছিল, যা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার নিচে। নিরীক্ষকদের মতে, এটি মূলধন পর্যাপ্ততার ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করে।

এছাড়া এই মূলধন ঘাটতির কারণে ব্যাংকটি একক গ্রাহক ঋণসীমা (Single Borrower Exposure Limit) এবং বৃহৎ ঋণসীমা (Large Loan Limit) সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু বিধানও যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে পারেনি। কারণ এসব সীমা ব্যাংকের যোগ্য নিয়ন্ত্রক মূলধনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ফলে কিছু ঋণগ্রহীতা ও বৃহৎ ঋণ হিসাবের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা ও নির্দেশনা থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরীক্ষকদের এই ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ অনুচ্ছেদে এনআরবিসি ব্যাংকের প্রভিশন সংরক্ষণ, লিজ হিসাবায়ন, কর্মচারী সুবিধা দায় নিরূপণ এবং মূলধন পর্যাপ্ততা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments