শনিবার, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeস্বাস্থ্য বার্তাঅস্বাস্থ্যকর খামারের তেলাপিয়া খেলে বাড়তে পারে ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি
spot_img
spot_img

অস্বাস্থ্যকর খামারের তেলাপিয়া খেলে বাড়তে পারে ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: মাছকে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ধরা হয়। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ডি ও বি-১২, পাশাপাশি আয়োডিন, ক্যালসিয়ামসহ নানা প্রয়োজনীয় খনিজ। নিয়মিত মাছ খেলে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো থাকে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত হয় এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব মাছ সমান নিরাপদ নয়। মাছের গুণাগুণ অনেকটাই নির্ভর করে সেটি কী পরিবেশে এবং কী পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে তার ওপর। বিশেষ করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চাষ করা তেলাপিয়া মাছ নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, দূষিত জলাশয় বা অপরিচ্ছন্ন খামারে উৎপাদিত তেলাপিয়া মাছের শরীরে আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, সিসা ও ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতু জমা হতে পারে। জার্নাল অব ইমার্জিং টেকনোলজিস অ্যান্ড ইনোভেটিভ রিসার্চে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ধাতুর মাত্রা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষের জন্য নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়েও বেশি হতে পারে। দীর্ঘদিন এসব উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতির পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের গবেষকদের একাংশের দাবি, অস্বাস্থ্যকর খামারে উৎপাদিত তেলাপিয়া নিয়মিত খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। গবেষণায় এশিয়া থেকে আমদানি করা কিছু তেলাপিয়া মাছের শরীরে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, বাণিজ্যিকভাবে দ্রুত মাছ বড় করার জন্য অনেক খামারে হাঁস, মুরগি বা শুকরের বর্জ্য খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক ও বিভিন্ন রাসায়নিক প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে মাছের শরীরে ক্ষতিকর উপাদান জমা হতে পারে, যা মানুষের হৃদরোগ, হাঁপানি, পক্ষাঘাত এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চাষ করা তেলাপিয়ার শরীরে ‘ডিবুটিলটিন’ নামের একটি রাসায়নিক জমা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা অ্যালার্জি ও হাঁপানির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া অপরিচ্ছন্ন খামারের মাছে স্ট্রেপ্টোকক্কাস ও কলমনারিসের মতো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এবং ডাইঅক্সিনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকার ঝুঁকিও রয়েছে। কিছু গবেষণায় খামারের তেলাপিয়ায় ডাইঅক্সিনের মাত্রা অন্যান্য মাছের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে।

২০০৮ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, তেলাপিয়া মাছে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। অতিরিক্ত ওমেগা-৬ শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হাঁপানির ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, সব তেলাপিয়া মাছ ক্ষতিকর নয়। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চাষ করা তেলাপিয়া পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবেই বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোও তেলাপিয়া খাওয়ার বিরুদ্ধে কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।

নিরাপদে তেলাপিয়া খাওয়ার উপায় হলো-

বিশ্বস্ত ও পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে মাছ কিনুন।

দুর্গন্ধযুক্ত, অস্বাভাবিক রঙের বা নরম হয়ে যাওয়া মাছ এড়িয়ে চলুন।

মাছ ভালোভাবে পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ সিদ্ধ বা রান্না করে খান।

প্রতিদিন একই ধরনের মাছ না খেয়ে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রাখুন।

সম্ভব হলে প্রাকৃতিক জলাশয় বা মানসম্মত খামারের মাছ বেছে নিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা তেলাপিয়া মাছে নয়; বরং অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর চাষপদ্ধতিতে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ উৎস থেকে মাছ কিনে সঠিকভাবে রান্না করে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments