ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আগামী জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে না দেশের ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রস্তাবিত ন্যূনতম ভ্যাট। এর বিপরীতে যাদের বার্ষিক টার্নওভার বেশি, তাদেরকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা হতে পারে। সে উদ্যোগও নেওয়া হবে সীমিত পরিসরে। আগামীকাল ২৯ জুন অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়ে এ ঘোষণা আসতে পারে অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক চাপ থেকে পরিত্রাণ দিতে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার— এমনটি নিশ্চিত করেছে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এনবিআরের এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনতে প্রস্তাবিত বাজেটে যে ঘোষণা দেওয়া হয়, সেটি আরও যাচাই-বাচাইয়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হচ্ছে না। তবে অর্থবিলে বিষয়টি ঘোষণা করার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি তৈরি করে রাখব।’
তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাদের বার্ষিক টার্নওভার বেশি, তাদের ভ্যাট নিবন্ধনের মধ্যে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, করের জাল বিস্তারের অংশ হিসেবে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে ১৬ ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ন্যূনতম ভ্যাটের আওতায় আনার যে ঘোষণা দেয় সেগুলো হলো— মুদি দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি, প্রসাধনীসামগ্রীর দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য। এ ছাড়া জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটর্স; মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা এ তালিকা আছে। তালিকায় আরও রয়েছে— পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার, স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, আসবাব, মিষ্টান্নভাণ্ডার ও রেস্তোরাঁ।
প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব ব্যবসায়ীর বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকার নিচে তাদের এই ন্য্যনতম ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল। এর মাধ্যমে অন্তত ২০ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভ্যাটের আওতায় আসত বলে মনে করেন এনবিআরের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া এ পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হতো বলেও মনে করেন তারা। বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন। এই হার বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেজন্য জাল সম্প্রসারণ করে করের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বাজেটে। বর্তমানে সারা দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের সংখ্যা আট লাখের মতো। এর মধ্যে পাঁচ লাখের মতো নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করে।
অন্যদিকে গতকাল শনিবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখার দাবি জানান। তারা বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা কার্যকর হলে দেশের বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপে পড়বে। এতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়বে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠবে।
তারা আরও দাবি করেন, দেশের অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় সীমিত এবং তাদের ভ্যাট ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নেই। এ অবস্থায় তাদের ভ্যাটের আওতায় আনা হলে ব্যবসা পরিচালনা আরও জটিল হয়ে পড়বে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ





























Recent Comments