ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করার অভ্যাস বহুদিন ধরেই চলে আসছে। অনেকেই মনে করেন, এটি দ্রুত ঘুমাতে এবং ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তবে এই ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্যতা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্বাসের কিছু বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। দুধে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামের একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরিতে সহায়তা করে। এই দুটি হরমোন ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও শুধু দুধ পান করলেই তা ঘুমের ওষুধের মতো কাজ করবে না, তবে এটি ঘুমের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সামান্য হলেও সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া প্রতিদিন রাতে একই সময়ে গরম দুধ পান করার অভ্যাসও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত এই রুটিন শরীরকে ইঙ্গিত দেয় যে বিশ্রামের সময় ঘনিয়ে এসেছে, ফলে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে শরীর ও মস্তিষ্ক সহজে সাড়া দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই মানসিক প্রস্তুতিই দুধের পুষ্টিগুণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে সবার জন্য রাতে দুধ পান করা সমানভাবে উপকারী নয়। ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত পরিমাণে দুধ পান করলে মূত্রথলি দ্রুত পূর্ণ হয়ে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। আবার যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দুধ পেট ফাঁপা, গ্যাস বা হজমের সমস্যার কারণ হয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আর যাদের দুধে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের অবশ্যই এটি এড়িয়ে চলা উচিত। একইভাবে অ্যাসিড রিফ্লাক্সে ভোগা ব্যক্তিদেরও রাতে বেশি দুধ পান করলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
রাতে দুধ পান করতে চাইলে ঘুমানোর ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে পরিমিত পরিমাণে সাধারণ, চিনি ছাড়া দুধ পান করাই ভালো। অতিরিক্ত চিনি বা ফ্লেভারযুক্ত দুধ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রত্যাশিত উপকারও কমিয়ে দিতে পারে। মোটের ওপর, গরম দুধ কোনো অলৌকিক সমাধান নয়, তবে সঠিক অভ্যাসের সঙ্গে এটি ভালো ঘুমের জন্য একটি মৃদু সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম






























Recent Comments