মঙ্গলবার, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeবিনোদনএকের পর এক রেকর্ড গড়ে বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ‘মাইকেল’
spot_img
spot_img

একের পর এক রেকর্ড গড়ে বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ‘মাইকেল’

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: মৃত্যুর ১৭ বছর পরও পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয়তায় যে এতটুকু ভাটা পড়েনি, তারই প্রমাণ দিল তাঁর জীবনভিত্তিক সিনেমা ‘মাইকেল’। মুক্তির পর থেকে বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড গড়া ছবিটি এবার আয় করেছে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এর মধ্য দিয়ে এটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয় করা জীবনীভিত্তিক (বায়োপিক) সিনেমার স্বীকৃতি পেয়েছে।

হলিউডভিত্তিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় এক বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে ‘মাইকেল’ পেছনে ফেলেছে কুইন ব্যান্ডের কিংবদন্তি গায়ক ফ্রেডি মার্কারিকে নিয়ে নির্মিত ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’ এবং পরমাণু বিজ্ঞানী জে. রবার্ট ওপেনহাইমারের জীবনভিত্তিক ‘ওপেনহাইমার’-কে।

এর আগে ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বোহেমিয়ান র্যা পসোডি’ প্রায় ৯১১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে সংগীতশিল্পীকে নিয়ে নির্মিত বায়োপিকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছিল। পরে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওপেনহাইমার’ প্রায় ৯৭৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে সব ধরনের বায়োপিকের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে। এবার সেই দুই রেকর্ডই ভেঙে বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করেছে ‘মাইকেল’।

ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে তাঁর বড় ভাইয়ের ছেলে জাফর জ্যাকসনের অভিনয়। চেহারা, নাচ, কণ্ঠের ভঙ্গি এবং মঞ্চ উপস্থিতিতে কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে তাঁর বিস্ময়কর সাদৃশ্য দর্শককে মুগ্ধ করেছে। অনেক সমালোচকই জাফরের অভিনয়কে ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

‘মাইকেল’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন আঁতোয়ান ফুকুয়া। তিনি এর আগে ‘ট্রেনিং ডে’ ও ‘দ্য ইকুয়ালাইজার’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমা নির্মাণ করেছেন। মাইকেল সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন জন লোগান।

মাইকেল জ্যাকসনের বিখ্যাত গান, নাচ ও মঞ্চ পরিবেশনার পুনর্নির্মাণ ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে, যা পুরোনো ভক্তদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দর্শকদেরও সিনেমা হলে টেনেছে। শুধু সর্বোচ্চ আয় করা বায়োপিকই নয়, ‘মাইকেল’ আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড গড়েছে।

এটি সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক উদ্বোধনী আয় করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ আয় করা বায়োপিক, ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল জীবনীচিত্র এবং প্রযোজনা সংস্থা লায়নসগেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার স্বীকৃতিও অর্জন করেছে।

তবে ছবিটির যাত্রা একেবারে বাধাহীন ছিল না। মুক্তির আগে চিত্রনাট্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট আপত্তি জানায়। পরে প্রায় পাঁচ কোটি ডলার ব্যয়ে সেই অংশ পুনরায় ধারণ করতে হয়। অতিরিক্ত ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতে নানা আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি ছবিটির সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

সমালোচকদের মতে, ‘মাইকেল’ কেবল একজন কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনের গল্প নয়; এটি নতুন প্রজন্মের কাছে মাইকেল জ্যাকসনের সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবকে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

বক্স অফিসের এই অভূতপূর্ব সাফল্য আবারও প্রমাণ করল, মৃত্যুর ১৭ বছর পরও মাইকেল জ্যাকসনের জীবন, সংগীত, নাচ ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে মানুষের আগ্রহ এতটুকুও কমেনি। বরং সময়ের সঙ্গে তাঁর উত্তরাধিকার আরও বিস্তৃত হচ্ছে, আর সেই উত্তরাধিকারেরই নতুন অধ্যায় হয়ে উঠেছে ‘মাইকেল’।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments