শনিবার, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeপ্রধান সংবাদডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা
spot_img
spot_img

ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বিদায়ী সপ্তাহে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল। সপ্তাহজুড়ে প্রধান মূল্যসূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী ছিল। একই সঙ্গে বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। যদিও আগের সপ্তাহের তুলনায় লেনদেনে সামান্য কমতি ছিল, তবুও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় ছিল।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৩০ জুলাই সমাপ্ত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯১ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৮৯৫ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহে সূচকটি ছিল ৫ হাজার ৮০৪ দশমিক ৩০ পয়েন্ট। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডিএসইএক্স সূচকের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ১৮ শতাংশে।

একই সময়ে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস৩০ ২৪ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২১৭ দশমিক ২২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ১২ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৯৫ দশমিক ২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বাজারের সূচক ডিএসএমইএক্স ১৩ দশমিক ৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২০৭ দশমিক ৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

বিদায়ী সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ১ হাজার ৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা থেকে শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ কম। পাঁচ কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ৫ হাজার ৩১৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। একই সময়ে ডলারে গড় দৈনিক লেনদেন ৮৫ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৮৫ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার।

লেনদেন কিছুটা কমলেও বাজার মূলধনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ১৩৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৭ লাখ ১ হাজার ২৭০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ফলে এক সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ।

বিদায়ী সপ্তাহে মোট ২০৬ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ২০৭ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার ইউনিটের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। মোট লেনদেন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮ কোটি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার, যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ৩৩ কোটি ৯৯ লাখ ৮৭ হাজার।

সপ্তাহজুড়ে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল স্পষ্ট। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৬৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ৮৯টির কমেছে এবং ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি। বাজারের অগ্রগতি-অবনতির অনুপাত (এডিআর) ছিল ২ দশমিক ৯৭, যা ক্রেতাদের শক্তিশালী আধিপত্যের ইঙ্গিত দেয়।

খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বস্ত্র খাত। এ খাতের অংশ ছিল মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ১৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, প্রকৌশল খাত ১১ দশমিক ৮ শতাংশ, সাধারণ বিমা খাত ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ব্যাংক খাত ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ, বিবিধ খাত ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।

খাতভিত্তিক রিটার্নে সবচেয়ে ভালো করেছে সাধারণ বিমা খাত, যেখানে গড় রিটার্ন হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এরপর রয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ, বস্ত্র খাত ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, সেবা ও আবাসন খাত ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ, বিবিধ খাত ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, প্রকৌশল খাত ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ২ দশমিক ৪০ শতাংশ, ট্যানারি খাত ২ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাত ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে করপোরেট বন্ড খাত, যেখানে রিটার্ন কমেছে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। এছাড়া সিমেন্ট, কাগজ ও মুদ্রণ, টেলিযোগাযোগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতেও নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী সপ্তাহে বাজারের সামগ্রিক রিটার্ন ছিল ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। একই সময়ে বাজারের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই) দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪০। খাতভিত্তিক সর্বনিম্ন পিই রয়েছে ব্যাংক খাতে, যা ৫ দশমিক ৩৫। অন্যদিকে সর্বোচ্চ পিই রয়েছে সিরামিক খাতে, যা ৩৩৮ দশমিক ৬৮।

সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ডমিনেজ, আইটিসি, সাপোর্ট পোর্ট, ফেকডিল, সাইহাম কটন মিলস, বেক্সিমকো, মিডল্যান্ড ব্যাংক, বিপি, আরগন ডেনিম এবং আইপিডিসি-এর শেয়ারে।

ব্লক মার্কেটেও সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ডমিনেজ-এর শেয়ারে। এরপর রয়েছে ফাইন ফুডস, সাপোর্ট পোর্ট, ফেকডিল, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, আইপিডিসি, ম্যারিকো বাংলাদেশ এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।

সপ্তাহের শীর্ষ দরবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে এক্সিম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, যার দর বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এছাড়া ফাস ফাইন্যান্স, সাইহাম টেক্সটাইল, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, আরগন ডেনিম, নিউলাইন ক্লোথিংস, রিজেন্ট টেক্সটাইল, এসআইপিএলসি, রিংশাইন টেক্সটাইল এবং আইএলএফএসএল উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে রয়েছে রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, যার শেয়ারদর কমেছে ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ। এছাড়া মেঘনা পিইটি, দুলামিয়া কটন, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, বেক্সিমকো, ই-ক্যাবলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, বেক্সসুকুক এবং রহিমা ফুড উল্লেখযোগ্য দরপতনের তালিকায় রয়েছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments