ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার পর অনেকেরই শরীরের অন্যান্য উপসর্গ কমে গেলেও ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, স্মৃতিশক্তি দুর্বল লাগা কিংবা চিন্তা করতে ধীরগতির মতো সমস্যা থেকে যেতে পারে। এ ধরনের সাময়িক মানসিক জড়তাকে ‘ব্রেইন ফগ’ বলা হয়। এতে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা বা অফিসের কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
শার্ডাকেয়ার-হেলথসিটির নিউরোলজি বিভাগের পরিচালক ডা. রবীন্দ্র শ্রীবাস্তবের মতে, অসুস্থতার পর মানসিক ক্লান্তির পেছনে শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া, অপর্যাপ্ত ঘুম, দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ক্লান্তি, পানিশূন্যতা এবং পুষ্টির ঘাটতি ভূমিকা রাখতে পারে। গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে এসব প্রভাব আরও বেশি দেখা দিতে পারে।
শরীরের প্রদাহের প্রভাব
কোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় বিভিন্ন প্রদাহজনিত রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এই প্রতিক্রিয়া প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত প্রদাহ সাময়িকভাবে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে অসুস্থতা কাটার পরও চিন্তাশক্তি ধীর হয়ে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা কিছু মনে করতে অসুবিধা হতে পারে।
অপর্যাপ্ত ঘুম বাড়ায় ক্লান্তি
অসুস্থতার সময় জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা শরীরের অস্বস্তির কারণে পর্যাপ্ত ঘুম নাও হতে পারে। সুস্থ হওয়ার পর শরীরের শক্তি পুরোপুরি ফিরে পেতেও সময় লাগে। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি ও শারীরিক ক্লান্তি মস্তিষ্কের কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে স্বাভাবিক কাজেও বেশি সময় লাগতে পারে এবং মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
পানিশূন্যতা ও পুষ্টির ঘাটতি
জ্বর, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বা ক্ষুধামন্দার কারণে অসুস্থতার সময় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত তরল না পেলে দুর্বলতা ও ক্লান্তি বাড়তে পারে। একইভাবে, অসুস্থতার সময় স্বাভাবিকভাবে খেতে না পারলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি থেকে বঞ্চিত হয়। এতে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া ধীর হওয়ার পাশাপাশি মানসিক সতর্কতাতেও প্রভাব পড়তে পারে।
কিছু ওষুধেও ঝিমুনি হতে পারে
অসুস্থতার সময় ব্যবহৃত কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তন্দ্রা বা ঝিমুনি দেখা দিতে পারে। এর ফলে সাময়িকভাবে সতর্কতা ও মনোযোগ কমে যেতে পারে।
সাময়িক মানসিক জড়তা মানেই মস্তিষ্কের ক্ষতি নয়
অসুস্থতার পর কিছুদিন স্মৃতিশক্তি দুর্বল লাগা বা মনোযোগে সমস্যা হওয়া মানেই মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে এমন নয়। অনেকের ক্ষেত্রেই শরীর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কমে যায়। কারও ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে পারে, আবার গুরুতর অসুস্থতার পর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ক্লান্তি ও মানসিক জড়তা থাকতে পারে।
সুস্থ হওয়ার সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার গ্রহণ এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ডে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট বিরতি নেওয়া উপকারী হতে পারে।
তবে মানসিক ক্লান্তি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে, দৈনন্দিন কাজ বা পেশাগত জীবনে ব্যাঘাত ঘটলে কিংবা সময়ের সঙ্গে সমস্যা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিভ্রান্তি, কথা বলতে অসুবিধা, তীব্র মাথাব্যথা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক আচরণ বা হাত-পায়ে দুর্বলতার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments