মঙ্গলবার, ২৪শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআজকের সংবাদপুঁজিবাজার পরিস্থিতি ব্রোকারদের সাথে ডিএসইর জরুরি বৈঠক
spot_img
spot_img

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি ব্রোকারদের সাথে ডিএসইর জরুরি বৈঠক

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বাজারে চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করতে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি।

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্বাভাবিক লেনদেন নিশ্চিত করতে ডিএসই ও সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাজারের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বাজারের সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, বাজারকে দমন করা নয়, বরং একটি পরিপালননির্ভর, প্রাণবন্ত, দক্ষ ও বিকাশমান পুঁজিবাজারে রূপান্তর করাই সবার অভিন্ন লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বৈঠকে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) নিয়ে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজারে নতুন আইপিও এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো ডিএসইর অন্যতম অগ্রাধিকার। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন আইপিও না আসা এবং ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজের সীমিত উপস্থিতি শেয়ারবাজারের অন্যতম দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন বন্ডের তালিকাভুক্তি ফি কমানো হয়েছে বলে জানান ডিএসই চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত আইপিও অথবা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদনকারী কোম্পানির প্রথম বছরের তালিকাভুক্তি ফি ৫০ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পরিচালনা পর্ষদ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না। বরং পর্ষদ নীতিগত দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। তবে নির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিষয়েই তদন্ত বা অনুসন্ধান করা হবে।

সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, সিসি অ্যাকাউন্ট, শেয়ার কিংবা অন্যান্য সম্পদে কোনো ধরনের ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিজ উদ্যোগে দ্রুত তা সমাধান করতে হবে। এ ধরনের ঘাটতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো বাজারের ইকোসিস্টেমের সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, “বাজারকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হলে সব পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”

তিনি সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা, উদ্বেগ, পরামর্শ ও নতুন ধারণা ডিএসইর কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতেই বাজারের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে ডিএসই আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের কমপ্লায়েন্স বা পরিপালন এবং সার্ভেইল্যান্স বা নজরদারি সংক্রান্ত কিছু ইন্সপেকশন কার্যক্রম অমীমাংসিত অবস্থায় ছিল। এসব ইন্সপেকশনের বিষয়ে বিএসইসিতে প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। ওই ইন্সপেকশনগুলো সম্পন্ন করার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে এসব পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

বৈঠকে বক্তারা অস্বাভাবিক লেনদেন চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে তুলনামূলক বেশি পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হলেই সেটিকে অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

বরং কোনো লেনদেন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে লেনদেনের ধরন, শেয়ারের দামে এর প্রভাব, বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন বক্তারা।

বৈঠকে ডিএসই ও ডিবিএর সংশ্লিষ্ট সদস্য এবং কর্মকর্তারা পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments