ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ক্রিকেটের খুদে সংস্করণে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের বড় অস্ত্র সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। দুজনই বিশ্বকাপের আগে আইপিএলে খেলেছেন। আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বও হয়েছে আমিরাতের তিন ভেন্যুতে। সেদিক থেকে বিশ্বকাপের জন্য তাদের প্রস্তুতি ছিল দুর্দান্ত। বিশ্বকাপ শুরুর পর বল হাতে সাকিব ঠিকই জ্বলে উঠছেন, কিন্তু মুস্তাফিজকে দেখা যাচ্ছে না চেনা ছন্দে।

বেধড়ক পিটুনি না খেলেও প্রত্যাশিত কার্যকারিতা নেই তার বোলিংয়ে। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে আইপিএলে বল হাতে কাটার-স্লোয়ারে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন মুস্তাফিজ। বিশ্বকাপে একই সার্ভিসই তার কাছে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। উইকেট শিকারে কাটার মাস্টারকে স্বরূপে দেখা যাচ্ছে না। যা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। ২৬ বছর বয়সী এ পেসারের ছন্দে ফেরার অপেক্ষায় এখন টাইগার শিবির।
আইপিএলে এবার ১৪ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে মরুর বুকে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্বে ৭ ম্যাচে ৬ উইকেট নেন। শেষ তিন ম্যাচে পেয়েছিলেন মাত্র ১ উইকেট। ঐ তিন ম্যাচ থেকে মুস্তাফিজের পড়তি ফর্ম শুরু। বিশ্বকাপে প্রস্তুতি ম্যাচে আইরিশদের বিরুদ্ধে ৪০ রান দিয়ে উইকেট শূন্য ছিলেন। প্রথম রাউন্ডে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২ রানে ২ উইকেট, ওমানের বিপক্ষে ৩৬ রানে ৪ উইকেট নেন। পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে ৩৪ রান দিয়ে উইকেট শূন্য ছিলেন তিনি।
মূল পর্বে এসে শারজাহতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩ ওভার করেছেন মুস্তাফিজ। ২২ রান দিলেও উইকেট পাননি। অবশ্য তার বলে লিটন দাস একটি ক্যাচ ফেলেছিলেন।
আন্তর্জাতিক টি-২০ তে ৫৬ ম্যাচে ৮২ উইকেট আছে মুস্তাফিজের। বিশ্বকাপে তার প্রতি দলের প্রত্যাশা অনেক। ইনিংসের শুরুতে বোলিং করলে উইকেট এনে দিবেন বা রান আটকাবেন, এটাই দলের চাওয়া। ডেথ ওভারেও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর নির্ভরতা তার প্রতি। যেমনটা আইপিএলে এবার দুটি ম্যাচে ৪ ওভারে ৮, ৯ রান দিয়েছেন তিনি। এমন দুরন্ত বোলিংই মুস্তাফিজের কাছে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বকাপে এখনো মুস্তাফিজ যেন অচেনা রূপেই হাজির হচ্ছেন বারবার। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ বোলার হিসেবে যেটি প্রত্যাশিত নয়।
গত রবিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের পর মুশফিকুর রহিমও আশা প্রকাশ করেছেন, টুর্নামেন্ট যত গড়াবে মুস্তাফিজ আরও ভালো করবেন। মুশফিক বলেছিলেন, ‘ফিজ অবশ্যই ভালো বোলার। সে খুব খারাপ বল করছে না। অবশ্যই এখন সে ভালো করছে ব্রেক থ্রু এনে দিচ্ছে। অবশ্যই আরও ভালো করবে।’
সুপার-১২ এ ম্যাচ জিততে হলে সাকিবের পাশাপাশি বোলিংয়ে বাঁহাতি এ পেসারের বোলিংটা গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। বোলিংয়ে তার ছন্দে ফেরাটা তাই জরুরি। আইপিএলের মতোই কৃপণ বোলিং, ব্যাটসম্যানদের আতঙ্ক হয়ে ধরা দিবেন মুস্তাফিজ, এটাই সবার কামনা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/দি.
































Recent Comments