
ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিদ্যমান বিতরণ মার্জিন থেকে কোম্পানির যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এজন্য বিদ্যমান বিতরণ মার্জিন দ্বিগুণ বাড়াতে সম্প্রতি পেট্রোবাংলার কাছে চিঠি দিয়েছে কোম্পানিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিটি বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রি করে ২৫ পয়সা বিতরণ মার্জিন পায়। এ মার্জিন থেকেই কোম্পানির যাবতীয় প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তবে এ পরিমাণ মার্জিন থেকে যে আয় হচ্ছে তাতে কোম্পানিটির কার্যক্রম পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা।
সে কারণে তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে পেট্রোবাংলার কাছে দেয়া চিঠিতে বিদ্যমান বিতরণ মার্জিনের পরিমাণ প্রতি ঘনমিটার ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, তিতাসের যা আয় হচ্ছে তার পুরোটাই তো গ্রাহকের কাছে পড়ে থাকছে। গ্রাহকের কাছে যে পরিমাণ বকেয়া রয়েছে সে টাকা তুলে আনাই এখন চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় একটি কোম্পানির পরিচালনা করা খুবই কঠিন। তবে এ অবস্থার মধ্য থেকে তিতাসকে তুলে আনতে হলে নতুন পরিকল্পনা করতে হবে।
বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিতাস গ্যাস ২০২০-২১ অর্থবছরে গ্যাস বিক্রি ও পরিচালন আয় করেছিল ১৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্যাস ক্রয় বাবদ খরচ হয় ১৭ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। গ্যাস বিক্রি বাবদ অর্থবছরে মোট লাভ করে ৬৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কোম্পানির প্রশাসনিক ব্যয় ৬৭৮ কোটি টাকা। এছাড়া ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যয় হয় ১৯ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে কোম্পানির আর্থিক দুরবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ ও সারের ক্ষেত্রে বিতরণ মার্জিন সামান্য বাড়ানো হয়েছিল। ২০১৯ সালে বিতরণ মার্জিন ভারিত গড়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ২২ থেকে বাড়িয়ে ২৫ পয়সা করা হয়। এতে তিতাসের আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। তবে এর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিতরণ মার্জিনের পরিমাণ আর বাড়ানো হয়নি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অমি.


































Recent Comments