রবিবার, ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআজকের সংবাদএবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন
spot_img
spot_img

এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন

ডেইলি শয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এবি ব্যাংক লিমিটেড ২০২২ সালের আর্থিক বিবরণীতে ব্যাংকটি ২ হাজার ৩১৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করেছে। এই খেলাপি ঋণের বিপরীতে যে পরিমাণ প্রভিশন রাখার কথা ছিল, তা না রেখেই লাভ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তা-ই নয়, এর বিপরীতে স্টক ডিভিডেন্ডও বিতরণ করেছে ব্যাংকটি। বিষয়টি নজরে এসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

জানা গেছে, ২০২২ সালের শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকে ৩ হাজার ৯৯৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা খেলাপি ঋণের তথ্য পাঠায় এবি ব্যাংক। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ধরা পড়ে যে, ব্যাংকটির প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৬ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২ হাজার ৩১৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের তথ্য চেপে গেছে ব্যাংকটি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জাকির হোসেন বলেন, যদি কোনো ব্যাংক খেলাপীকরণের তথ্য গোপন করে থাকে, তাহলে অবশ্যই এর তদন্ত হবে। প্রকৃত খেলাপি ঋণের তথ্য বের করে ওই ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। যেসব কর্মকর্তা এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত এবি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজালের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ সুবিধা (ডেফারেল) নিয়ে লোকসান আড়াল করে আসছে এবি ব্যাংক। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাংককে সব ধরনের ঋণের বিপরীতে নির্ধারিত হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করলে বিপুল লোকসানী ব্যাংকে পরিণত হতো এবি ব্যাংক।

প্রভিশন সংরক্ষণে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় পেয়েছে ব্যাংকটি। ডেফারেলের এই বিশেষ কৌশল ব্যবহার না করলে বর্তমানে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, অশ্রেণিকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে পরিচালন মুনাফার দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত, নিম্নমানের শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ এবং সন্দেহজনক শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন হিসেবে আলাদা করে রাখে ব্যাংকগুলো। মন্দ ও ক্ষতিকর শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংককে ১০০ শতাংশ অর্থ প্রভিশন হিসেবে আলাদা করে রাখতে হয়।

তথ্যমতে, ২০২১ সালে এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ১১০ কোটি। এর বিপরীতে ৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা নেয় তারা। ২০২০ সালে ৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকার বিপরীতে তাদেরকে ডেফারেল সুবিধা দেওয়া হয়েছিল ৪ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের হিসাবে দেখা যায়, এবি ব্যাংক ৪ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৪ হাজার ৬০৪ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা নিয়েছে। ২০১৮ সালে ৭ হাজার ৯৭২ কোটি টাকার বিপরীতে ৬ হাজার ১৭১ কোটি টাকার ডেফারেল সুবিধা পায় তারা।

তার আগে ২০১৭ সালে কোনো ডেফারেল সুবিধা ছিল না এবি ব্যাংকের। সে সময় প্রয়োজনীয় প্রভিশনের চেয়ে বেশি সংরক্ষণ করেছিল ব্যাংকটি। ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশনের প্রয়োজনীয়তা ছিল ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর তারা সংরক্ষণ করেছিল ২৫ কোটি টাকা। একই অবস্থা ছিল ২০১৬ সালেও। ১ হাজার ১২৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজন ছিল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রভিশন। কিন্তু ভবিষ্যত ঋণ সুরক্ষার জন্য ওই সময় ২৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা প্রভিশন রেখেছিল ব্যাংকটি।

একই পরিস্থিতি দেখা গেছে এবি ব্যাংকের কর-পরবর্তী মুনাফাতেও। একসময় বিপুল মুনাফা করা ব্যাংকটির মুনাফা বর্তমানে নেমে এসেছে অর্ধেকে। ২০২২ সালে তাদের কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৭১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ২০২১ সালে ছিল ৭১ কোটি ৬০ লাখ, ২০২০ সালে ৩৯ কোটি ৪০ লাখ, ২০১৯ সালে ১২ কোটি ৩০ লাখ, ২০১৮ সালে ৪ কোটি ৩০ লাখ, ২০১৭ সালে ৪ কোটি, ২০১৬ সালে ১৫০ কোটি ৮০ লাখ এবং ২০১৫ সালে ১৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। উল্লিখিত বছরগুলোতে তাদের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে যথাক্রমে ৮৩ পয়সা, ৮৩ পয়সা, ৫০ পয়সা, ১৫ পয়সা, ০৬ পয়সা, ০৫ পয়সা, ২ টাকা ২৫ পয়সা (২০১৬) এবং ২০১৫ সালে ২ টাকা ১৫ পয়সা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যমতে, এবি ব্যাংক এখন বি-ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। ২০২২ সালে ২ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি। শুধু ২০২২ সাল নয়, ২০১৯ সাল থেকেই ব্যাংকটি বি-ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো বছরেই ৫ শতাংশের বেশি ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি তারা।

২০২১ সালে ৩ শতাংশ স্টক এবং ২ শতাংশ ক্যাশ, ২০২০ সালে ৫ শতাংশ স্টক এবং ২০১৯ সালে ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছে তারা। ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে কোনো ডিভিডেন্ড দিতে না পারায় জেড ক্যাটাগরিতে অবস্থান ছিল এবি ব্যাংকের। কিন্তু এর আগে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে এ-ক্যাটাগরির ব্যাংক ছিল এটি। ওই দুই বছরে সাড়ে ১২ শতাংশ করে স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছিল এবি ব্যাংক।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments