ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: মেরুদণ্ডের হাড়ের ডিস্কে ক্ষত, যা কিনা একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে, সেটা পাত্তা দেওয়া হয়নি! তামিম ইকবালের অভিযোগ ছিল– বিসিবির চিকিৎসকদের গাফিলতিতে কোমরের ব্যথা ভালো হয়নি। পুরোনো ব্যথা ফিরে আসার পেছনে জিমে ফিজিওর ভুল ব্যায়াম করানো বড় করে দেখাতে চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তখন তদন্তের মাধ্যমে তামিমের অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

রোববার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিলেন বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, তামিম ইকবাল ও মেডিকেল টিম। সব পক্ষের কথা শোনার পর মেডিকেল টিমের কোনো গাফিলতি পায়নি বিসিবি। বরং তামিম অভিযুক্ত হয়েছেন বিসিবি চিকিৎসকদের দেওয়া চোট পুনর্বাসনের ব্যায়াম না করে। বিসিবির মেডিকেল টিম থেকে তামিমের চিকিৎসা-সংক্রান্ত আদ্যোপান্ত লিখিত দেওয়া হয়েছে, যেটা দেখে অবাকই হয়েছেন পাপন।
তামিম কোমরের ব্যথা নিয়ে বিসিবি মেডিকেল বিভাগের কাছে প্রথম রিপোর্ট করেন ২০২২ সালের অক্টোবরে। দেশ-বিদেশে এমআরআই করাসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখান বাঁহাতি ওপেনার। ইংল্যান্ডের চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু ব্যায়াম দেওয়া হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের দেওয়া রুটিন একেবারেই অনুসরণ করেননি তামিম। পরিচর্যা না করে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে গেছেন তিনি।
গত ডিসেম্বরে ভারতের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলেননি কোমরে ব্যথা থাকায়। এ বছর বিপিএল খেলেন ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলেন তিনি। মে মাসে ইংল্যান্ডে গিয়ে এমআরআই করালে বড় কোনো সমস্যা চিহ্নিত না হলেও বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করতে বলেছিলেন। তামিম সে নির্দেশনা অনুসরণ না করায় ব্যথা ফিরে আসে।
কোমরের ব্যথার কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলা হয়নি তাঁর। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমেছিলেন পুরোপুরি ফিট না হয়ে। প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পরের দিন অবাক করা কাণ্ড ঘটান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ২৮ ঘণ্টার ব্যবধানে অবসরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন। কোমরের চিকিৎসা করে ফিট হয়ে জাতীয় দলে ফিরতে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দেড় মাসের ছুটিও নেন তিনি। বিসিবির খরচে তামিমের পছন্দে লন্ডনে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চোট পরখ করে দেখে সুস্থ থাকার কৌশল বলে দেন। সেটা হলো নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করা।
গতকাল বোর্ডের জরুরি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বলার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। কিন্তু এ প্রসঙ্গে কোনো প্রশ্ন না হওয়ায় বিষয়টি আর সামনে আনেননি তিনি। বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন পরিচালক বলেন, ‘বিষয়টি জালাল ভাইয়ের বলার কথা। তিনি কেন বলেননি জানি না। মেডিকেল টিম যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে তামিমের গাফিলতি পাওয়া গেছে। জালাল ভাই মেডিকেল টিম ও তামিমের সঙ্গে সব রিপোর্ট নিয়ে আলাদা মিটিং করেছেন। সেখানে মেডিকেল টিম বলেছে তাকে যে ব্যায়াম দেওয়া হয়েছিল, তা এক দিনও করেনি। আজই (গতকাল) প্রথম সে ব্যায়াম করেছে।
এ ব্যাপারে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। সেটা দূর হয়ে গেছে।’ তিনি খোলাসা না করলেও বোর্ডের একাধিক পরিচালক জানান, বিসিবির চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ করা ঠিক হয়নি তামিমের। এ কারণে বোর্ড থেকে জালাল ইউনুসকে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি পরিষ্কার করতে বলা হয়েছিল।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.



























Recent Comments