
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সকল লাইফ বীমা কোম্পানির সম্মানীত গ্রাহকগণকে তাদের মূল্যবান তামাদি পলিসিটি বিলম্ব ফি ছাড়াই তামাদি কালের প্রিমিয়াম জমা দিয়ে পলিসি চালু করে ভবিষ্যতে আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। তবে যেসকল পলিসি আগামী তিন বছরের মধ্যে মেয়াদপূর্তী হবে সে সকল পলিসির ক্ষেত্রে এ সুযোগ প্রযোজ্য নয়। পলিসি তামাদি থাকার সময়কাল ৫ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। বিশেষ ফি ছাড়া পুন:বহাল এর সময়সীমা আগামী ২৬ মার্চ ২০২১। আগ্রহী বীমা গ্রাহকগণকে সংশ্লিষ্ট লাইফ বীমা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
নিন্মে তামাদি পলিসি নিয়ে আলোচনা করা হলো:
তামাদি পলিসি: জীবন বীমার পলিসি একটি মূল্যবান নগদ সম্পত্তি। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পলিসি গ্রহণ করা হয়। তবে সময়মতো প্রিমিয়াম জমা না দেয়ায় অনেক পলিসি ল্যাপস বা তামাদি হয়ে যায়। বীমা গ্রহীতা পলিসির অনুকুলে প্রিমিয়াম কিস্তির অর্থ প্রদানের নির্দিষ্ট তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পরও অনুগ্রহকাল হিসেবে ৩০ দিন অতিরিক্ত সময় পেয়ে থাকেন। এই অনুগ্রহকালের মধ্যে যদি বীমা গ্রহীতার মৃত্যু হয়, তাহলেও বীমাটি কার্যকর বলে গণ্য হবে।
তবে অনুগ্রহকালের মধ্যে কিস্তির অর্থ জমা দেওয়া না হলে ‘বিচ্যুতি’ ঘটেছে বলে বিবেচিত হবে। দু’বছর নিয়মিত প্রিমিয়াম দেয়ার পূর্বে অনুরূপ ‘বিচ্যুতি’ ঘটলে সংশ্লিষ্ট তারিখ হতে বীমা পলিসিটি অচল ও তামাদি হয়েছে বলে গণ্য হবে। পলিসি তামাদি অবস্থায় বীমা গ্রহীতার মৃত্যু হলে তার মনোনীতক/মনোনীতকগণ অথবা ওয়ারিশগণ বীমার প্রদেয় সুবিধা প্রাপ্য হবেন না।
পলিসি তামাদি হওয়ার কারণ: বিভিন্ন কারণে পলিসি তামাদি হতে পারে। যেমন- বীমা গ্রহীতার সামর্থের চেয়ে কম বা বেশি টাকার বীমা দেয়া। অর্থাৎ ১০,০০০ টাকা প্রিমিয়াম দিতে যিনি অক্ষম তাকে ২০,০০০ হাজার টাকার বীমা দিলে প্রথম ২/১টি প্রিমিয়াম দিতে পারলেও পরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার যার সামর্থ আছে ৫০,০০০ টাকা প্রিমিয়াম দেয়ার তাকে ১০,০০০ টাকার বীমা দিলে গ্রাহক মন খারাপ করে ওই পলিসি নাও চালাতে পারেন।
আর্থিক বিপর্যয়ের ফলেও পলিসি তামাদি হতে পারে। যেমন-ছেলে-মেয়ের বিবাহ প্রদান, নতুন ব্যবসায় লোকসান, চাকরি হারানো ইত্যাদি কারণে আর্থিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এজেন্ট জোর করে সম্ভাব্য গ্রাহককে বীমা পলিসি দিয়ে থাকে। পরবর্তীতে গ্রাহক ওই পলিসি আর চালায় না ফলে তামাদি হয়ে যায়।এজেন্ট কর্তৃক প্রিমিয়াম আত্মসাতের কারণেও পলিসি তামাদি হতে পারে।
অনেক সময় দীর্ঘ মেয়াদী বীমায় ত্রৈমাসিক বা ষান্মাষিক প্রিমিয়াম দিতে দিতে এক সময় অধৈর্য হয়ে প্রিমিয়াম দেয় না, তখন পলিসি তামাদি হয়ে যায়।আবার বিক্রয় পরবর্তী গ্রাহক সেবার অভাবেও পলিসি তামাদি হতে পারে। যেমন নোটিশ না দিলে অনেক সময় গ্রাহক ভুলে গিয়ে প্রিমিয়াম জমা নাও দিতে পারেন। গ্রাহকের কাছে বীমার প্রয়োজন বা গুরুত্ব না থাকলেও পলিসি তামাদি হতে পারে।
তামাদি পলিসি পুনর্বহালে করণীয়: তামাদি পলিসি পুনরুদ্ধারের বিষয়টি কোম্পানি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া পলিসি তামাদির মেয়াদের ওপরও বিষয়গুলো নির্ভর করে। সাধারণত দুইভাবে তামাদি পলিসি পুনরুদ্ধার করা যায়। এক. সাধারণ পুনর্বহাল ও দুই. বিশেষ পুনর্বহাল। বীমা যোগ্যতার সন্তোষজনক প্রমাণ দাখিল এবং সকল বকেয়া প্রিমিয়াম কিস্তিসহ অন্যান্য পাওনা (যদি থাকে) পরিশোধ করে প্রিমিয়াম প্রদান বন্ধের তারিখ হতে ৫ বছরের মধ্যে বীমা পলিসিটি সাধারণ পুনর্বহাল করা যায়।
আর সমর্পন মূল্য অর্জনের পূর্বে যদি বীমা পলিসি তামাদি হয়ে যায়, তবে সেক্ষেত্রে প্রিমিয়াম প্রদান বন্ধের তারিখ হতে ন্যূনতম ৬ মাস এবং সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে বিশেষ পুনর্বহাল পদ্ধতি গ্রহণ করার সুযোগ থাকবে। এ জন্য বীমাযোগ্যতার সন্তোষজনক প্রমাণ বীমা গ্রহীতার নিজ ব্যয়ে কোম্পানির নিকট প্রদান করতে হবে। এ ব্যবস্থায় বীমার কার্যকরিতা শুরু দিন এবং পূর্ণতা প্রাপ্তির সময় এগিয়ে দিয়ে যথাযথ পুনর্বহাল মাশুল ও বীমা গ্রহীতার বর্ধিত বয়সের জন্য প্রযোজ্য প্রিমিয়াম, কিস্তির বাড়তি অর্থ প্রদান করে বীমা পুনর্বহাল করা যাবে। তবে বীমা গ্রহীতা তার পলিসির মেয়াদকালে শুধুমাত্র একবারই এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ.নি/মু























Recent Comments