রবিবার, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeএক্সক্লুসিভমামলার দোহাইয়ে পুঁজি পাওয়ার শঙ্কায় ক্রেস্টের বিনিয়োগকারীরা
spot_img
spot_img

মামলার দোহাইয়ে পুঁজি পাওয়ার শঙ্কায় ক্রেস্টের বিনিয়োগকারীরা

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্: দীর্ঘ দুই মাস সময় অতিবাহিত হলেও আজও পর্যন্ত ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ হাউজের বিনিয়োগকারীরা পুঁজি ফিরে পাওয়ার কোন নিশ্চয়তা পায়নি। হাউজের এমডি ও সংশ্লিষ্টরা গ্রেপ্তার হলেও বিনিয়োগকারীদের পুঁজি হারানোর শঙ্কা কাটেনি। আদৌ কি এ বিষয়ে কোন সমাধান হবে নাকি কালক্ষেপণ করা হচ্ছে সে বিষয়ে অন্ধকারে রয়েছেন ভুক্তভোগি বিনিয়োগকারীরা।

জানা যায়, বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থ নিয়ে ২১ জুন লাপাত্তা হওয়া ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শহীদ উল্লাহসহ তার স্ত্রী নিপা সুলতানাকে গত ৫ জুলাই দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এ ঘটনায় হাউজের দুই গ্রাহক এবং স্টক এক্সচেঞ্জ মামলা করেছেন। মামলাটি এখন বিচারক আশেক ইমামের মেট্রো পলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৬-এ বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা না পাওয়ায় গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে জমা থাকা শেয়ারগুলো হস্তান্তর করতে পারছে না ডিএসই।
সর্বশেষ গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে জমা করা শেয়ার সংশ্নিষ্ট বিনিয়োগকারীদের লিঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার আবেদন করা হলেও আদালত কোনো আদেশ দেননি। এর ফলে এ হাউজের শেয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ।
এ বিষয়ে ক্রেস্ট সিকিউরিটি হাউজের বিনিয়োগকারী শহিদ উল্লাহ (বিও আইডি: 1204050034504751 ও 1204050043623481) বলেন, গত ২০১০ সাল থেকে আমরা বিনিয়োগকারীরা শুধু লোকসানের মধ্য দিয়ে দিন পার করছি। এ ব্যবসা করতে গিয়ে আমার গ্রামের জায়গা-জমি বিক্রি করতে হয়েছে। তার পরেও লাভের মুখ দেখতে পারিনি। এতোদিনতো কোম্পানিগুলোর নানা প্রতারণার শিকার হয়েছি আমরা। এখন নতুন করে সিকিউরিটিজ হাউজের প্রতারণার শিকার হচ্ছি।
বর্তমান বাজারের অবস্থা ভালো। এ অবস্থায় যদি লেনদেন করতে পারতাম তা হলে এতো বছরের লোকসান থেকে কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখতে পারতাম। কিন্তু সেই রাস্তাটাও বন্ধ হয়ে আছে এ ধরণের দুর্নীতিবাজ হাউজগুলোর জন্য। এখন আমরা কার কাছে যাবো? নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ডিএসইর কাছে বিনিয়োগকারীরা এর সমাধান চাইলেও তারা মামলার দোহাই দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ও শেয়ারের কি হবে? কত দিন লাগবে এর সমাধান হতে?
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সানাউল হক বলেন, এ মামলায় ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের অফিস এবং সব নথি ও কম্পিউটার ডিবি পুলিশের হেফাজতে আছে। তারা স্টক এক্সচেঞ্জকে নথি ও কম্পিউটার বুঝিয়ে না দিলে গ্রাহকদের শেয়ার বুঝিয়ে দেওয়া যাবে না। গ্রাহকদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন রাজু বলেন, হাউজটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রায় দুই হাজার গ্রাহকের শত কোটি টাকার শেয়ার আটকে রয়েছে। তারা শেয়ারবাজারে লেনদেন করতে পারছেন না। তাদের লেনদেনের সুযোগ দিতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। ডিএসইও অন্য কোনো ব্রোকারেজ হাউসে লিংক অ্যাকাউন্ট করে শেয়ার হস্তান্তর করতে চায়। বিচারক আর্জি শুনেছেন, তবে কোনো আদেশ দেননি।
ডিএসই তথ্যমতে, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের চার হাজার ৭৪০ গ্রাহক শেয়ার ও নগদ টাকা জমা থাকার দাবি করে স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে চার হাজার ৭১৯ জন নগদ ৬২ কোটি টাকা জমা থাকার দাবি জানান। শেয়ার থাকার কথা বলেছেন এক হাজার ৯০০ জন। জুন শেষে সিডিবিএল জানিয়েছিল, এসব গ্রাহকের জমা থাকা শেয়ারগুলোর ওই সময়ের বাজারমূল্য ছিল ৮৩ কোটি টাকা। গত এক মাসে শেয়ারবাজার চাঙ্গা থাকায় এসব শেয়ারের দর শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে মনে করেন স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম এইচ

 

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments