ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন পর্যন্ত আলোচনা চলে বলে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দেশটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত তিনি এখনো নেননি। তবে, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের কাছে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।
স্থানীয় সময় শুক্রবার দুটি ভিন্ন স্থানে এসব মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা এখনো তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আমার মনে হয়, দিন যত যাচ্ছে তারা ততই বেশি গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছে, সম্ভবত এর সুস্পষ্ট কারণও আছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। আমরা তাদের মধ্যে যে ধরনের গুরুত্ব আগে দেখেছি, এবার তারা তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আমরা সমাধানে পৌঁছাতে পারব। কী হয়, তা আমরা দেখব।’
ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমি নিইনি।’
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাইলে বিষয়টিকে আরও অনেক উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি। আমরা তা করার জন্য প্রস্তুত, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং অভিযানে যাওয়ার জন্য তৈরি।’
ট্রাম্প বলেছেন, ‘দুটি পথ আছে। আমি মনে করি, প্রথমটিই বেশি বুদ্ধিমানের পথ। তবে অন্যটি সম্ভবত সহজ পথ।’ তিনি কূটনীতি ও সামরিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত আছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ‘সবাই’ এতে যুক্ত আছেন।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে বার্ষিক করেসপন্ডেন্টস ডিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ‘এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’
এ সময় ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ ইরানি বাহিনীকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা সেখানে ইরানকে খুব কঠিন আঘাত হেনেছি। তাদের নৌবাহিনী বিলুপ্ত এবং তাদের বিমান বাহিনীও শেষ। ইরানের ২৫০টি জেট বিমান আর নেই এবং ১৫৯টি নৌকা সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে।’
ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘তাদের কোনো রাডার নেই, তাদের হাতে খুব অল্প সংখ্যক ড্রোন অবশিষ্ট আছে। মাঝেমধ্যে তারা কিছু ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু তাদের হাতে আর বেশি কিছু অবশিষ্ট নেই।’
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন নিয়ে সবাই যা-ই বলুক না কেন, আমি তাড়াহুড়ো করছি না। আমাদের কাজটি সঠিকভাবে করতে হবে।’ এ বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠেয় ওই নির্বাচনে রিপাবলিকান কৌশলবিদরা আশঙ্কা করছেন, অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধের কারণে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ট্রাম্পের দল আসন হারাতে পারে।
নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন। তবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে তার মেয়াদের শেষ দুই বছরে শাসন পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments