ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৩টি ব্যাংকের মধ্যে অধিকাংশ ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধি পেলেও উল্টো চিত্রে রয়েছে নয় ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’২২) নয় ব্যাংকের মুনাফা কমেছে। অন্যদিকে ২৩টি ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

তথ্যমতে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই নয় ব্যাংকের মুনাফা কমার পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংক লোকসানেও জুড়িয়ে পড়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজার অন্য সেক্টরের কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমাটা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যাংক সেক্টরের কোম্পানির মুনাফা কমা বা লোকসানে জড়িয়ে পড়াটা স্বাভাবিক নয়। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিৎ কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন সঠিক ভাবে তদন্ত করা। নয়তো এর প্রভাব পড়বে পুঁজিবাজারের উপর। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
মুনাফা কমে যাওয়া নয় কোম্পানি হচ্ছে- প্রাইম ব্যাংক, স্যোসাল ইসলামি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউসিবি, ওয়ান ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক।
প্রাইম ব্যাংক: ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ’২২) শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯২ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিলো ১ টাকা ৩৪ পয়সা। আগের বছরের তুলোনায় ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ৪২ পয়সা বা ৩১.৩৪ শতাংশ।
স্যোসাল ইসলামি ব্যাংক: ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ’২২) শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১৪ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিলো ৩১ পয়সা। আগের বছরের তুলোনায় ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ১৭ পয়সা বা ৫৪.৮৩ শতাংশ।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক: ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ’২২) শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১৩ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিলো ১৭ পয়সা। আগের বছরের তুলোনায় ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ৪ পয়সা বা ২৩.৫২ শতাংশ।
ব্র্যাক ব্যাংক: ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ’২২) শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৭৭ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিলো ৮২ পয়সা। আগের বছরের তুলোনায় ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০৫ পয়সা বা ৬.০৯ শতাংশ।
সিটি ব্যাংক: ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ’২২) শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৮৩ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিলো ৯৭ পয়সা। আগের বছরের তুলোনায় ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ১৪ পয়সা বা ১৪.৪৩ শতাংশ।
আইএফআইসি ব্যাংক: ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ’২২) শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১৯ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিলো ৪৪ পয়সা। আগের বছরের তুলোনায় ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ২৫ পয়সা বা ৫৭ শতাংশ।
ইউসিবি: ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ’২২) শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২৬ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিলো ৩৮ পয়সা। আগের বছরের তুলোনায় ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ১২ পয়সা বা ৩১ শতাংশ।
ওয়ান ব্যাংক: ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ’২২) শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪৫ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিলো ৭৯ পয়সা। আগের বছরের তুলোনায় ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ৩৪ পয়সা বা ৪৩ শতাংশ।
ন্যাশনাল ব্যাংক: ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’২২) শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১৮ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিলো ১২ পয়সা। আগের বছর কোম্পানিটি মুনাফায় থাকলেও এবছর লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়েছে।
উল্লেখ্য: রূপালী ব্যাংক এখনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম এইচ
































Recent Comments