ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: তুলা আমদানিতে ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের বস্ত্রশিল্প। এ কারণে আমদানিকরা তুলা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করছে না বস্ত্রকলগুলো। বন্দরে তুলার স্তূপ জমেছে। তাই আরোপিত ২ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ।
সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বিটিএমএর পক্ষে জরুরি ভিত্তিতে তুলার ওপর থেকে এআইটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। বৈঠকে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্প সরকারের প্রণোদনার সুযোগে দেশে ডাম্পিং মূল্যে সুতা রপ্তানি করছে।
এর মধ্যে তুলা আমদানিতে ২ শতাংশ এআইটি আরোপ করে সরকার একদিকে স্থানীয় উৎপাদককে নিরুৎসাহিত করছে, অন্যদিকে বিদেশ থেকে শুল্কমুক্ত সুতা আমদানিকে উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্প মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। ওই বৈঠকের বিষয়ে গতকাল রোববার বিটিএমএর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিটিএম সরকারকে জানায়, এআইটি আরোপের কারণে উদ্যোক্তারা বন্দর থেকে তুলা ছাড় করছেন না। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে বিপুল পরিমাণ তুলা খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে, ডেমারেজ চার্জ বাড়ছে।
বৈঠকে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠী মূলত দেশীয় কটন ও কৃত্রিম আঁশ মিশ্রিত সুতা দিয়ে তৈরি কাপড় ব্যবহার করে। এই কাপড়ের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ বিদেশি পণ্যের দিকে ঝুঁকবে এবং দেশীয় টেক্সটাইল মিল ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে।
এতে ব্যাংক ও আর্থিক খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থানীয় এবং প্রচ্ছন্ন রপ্তানির বস্ত্রশিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এআইটি প্রত্যাহারের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়নি। স্থানীয় বাজারে সুতার ওপর কেজিপ্রতি ৫ টাকা ভ্যাট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/আ
































Recent Comments