সোমবার, ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআন্তজার্তিকএক সপ্তাহের মধ্যেই গাজা যুদ্ধবিরতি হতে পারে: ট্রাম্প
spot_img
spot_img

এক সপ্তাহের মধ্যেই গাজা যুদ্ধবিরতি হতে পারে: ট্রাম্প

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক:   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস এক সপ্তাহের মধ্যেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গাজা যুদ্ধবিরতি হতে পারে।

শুক্রবার (২৮ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা জানান ট্রাম্প। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপের পর যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদী।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা মনে করি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি হতে পারে।’ তবে তিনি কার সঙ্গে কথা বলেছেন, এ সময় তা প্রকাশ করেননি।

ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের দপ্তর অবশ্য গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না।

বাইডেন সরকারের সময় গাজায় যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়েছিল, সেটির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী ছিলেন উইটকফ। তবে, মার্চে ইসরায়েল চুক্তি লঙ্ঘন করে আকস্মিক বিমান হামলা শুরু করলে সেই চুক্তি ভেঙে যায়।

এদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক নুর ওদ শুনিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, ট্রাম্পের এই মন্তব্য গাজার ক্ষুধার্ত ও নিপীড়িত জনগণের জন্য আশার বাণী হতে পারে। তবে, বাস্তবে এই মুহূর্তে কোথাও কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর এই আলোচনা কিছুটা বেড়েছে। তবে ইসরায়েল এখনই গাজায় যুদ্ধ থামানোর কথা আলোচনা করতে চায় না।’

এই বিশ্লেষকের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই মুহূর্তে গাজায় যুদ্ধবিরতির কথা বললে উল্টো তিনিই রাজনৈতিকভাবে বড়সড় ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে ওদ আরও বলেন, ‘আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে নেতানিয়াহুকে কোনো না কোনোভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিতে হতে পারে। এই সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রচেষ্টা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনই এগিয়ে নিচ্ছে।’

অন্যদিকে হামাস বলছে, ইসরায়েলকে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং তারা মার্চ থেকে যেসব অঞ্চল দখল করেছে, তা ছেড়ে দিতে হবে। এরপরই তারা যুদ্ধবিরতিতে যাবে।

হামাসের দাবি, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই নিশ্চয়তা দিতে হবে। পাশাপাশি ইসরায়েল যেন পুনরায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করতে না পারে, তারও নিশ্চয়তা চেয়েছে এই সংগঠনটি।

ইসরায়েলের কৌশল-বিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গাজা, ইরান ও নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আলোচনা করবেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

গাজায় গণহত্যা চলছেই

এক দিকে, ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির বাণী দিলেও গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা আগ্রাসনে ক্লান্ত-যুদ্ধপীড়িত-নিপীড়িত মানুষের ওপর গণহত্যা থামায়নি ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফের বিরুদ্ধে বর্তমানে ক্ষুধাঅস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

এরই মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ত্রাণ সহায়তা নিতে যাওয়া শত শত নিরস্ত্র ফিলিস্তিনির নিহত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের ক্ষুধার্ত ও নিরস্ত্র মানুষদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর আদেশ দেওয়া হয়েছিল, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল।

তবে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অবশ্য এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন।

কিন্তু গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মে মাসের শেষের দিক থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ নিতে গিয়ে ৫৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দুঃখপ্রকাশ করে বলেছেন, ‘মানুষ শুধু নিজেদের আর পরিবারের জন্য খাবারের খোঁজে বের হচ্ছে, আর সেই খোঁজটাই হয়ে উঠছে তাদের মৃত্যুদণ্ড।’

গুতেরেস স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘খাদ্যের খোঁজ কখনো মৃত্যুর কারণ হতে পারে না।’

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) একে ‘মানবিক সহায়তার নামে গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/আ.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments